বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবারও সোনারগাঁওয়ের মেঘনায় নৌকাডুবি, বিয়ের বাজার, গরু-খাসিসহ নিখোঁজ ৪!

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে একের পর এক দুর্ঘটনায় আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবারও নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে কুমিল্লা থেকে সোনারগাঁওয়ে আসার পথে মেঘনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌকায় থাকা বিয়ের বাজার, গরু ও খাসিসহ বিভিন্ন মালামাল নদীতে ডুবে গেছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সোনারগাঁও উপজেলার হারিয়া-বৈদ্যেরবাজার এলাকার আমান সিমেন্ট কারখানার পেছনের ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ চারজন হলেন—হেলাল উদ্দিন (৫৫), সজীব (২৪), সামিয়া (১৭) ও সামিন (৫)। তারা একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা থেকে ওই পরিবারের সদস্যরা সোনারগাঁওয়ে তাদের এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা হন। বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বাজার-সদাইয়ের পাশাপাশি একটি গরু ও খাসিও তাদের সঙ্গে ছিল। নৌকাযোগে মেঘনা নদী পার হয়ে সোনারগাঁওয়ের দিকে আসার সময় নদীর মাঝামাঝি এলাকায় নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। একপর্যায়ে নৌকাটি ডুবে গেলে যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান।

নৌকাডুবির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে উদ্ধার অভিযানে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তবে একই পরিবারের চারজন এখনো নিখোঁজ থাকায় স্বজনদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার সময় নৌকাডুবির ঘটনাটি ঘটায় চারপাশে দ্রুত অন্ধকার নেমে আসে। ফলে নদীতে নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারীদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মেঘনা নদীর স্রোতও প্রবল থাকায় নিখোঁজদের উদ্ধারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

এদিকে মাত্র কয়েক দিন আগে সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে তিন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে জমজ দুই ভাইসহ তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল। সেই ঘটনার শোক কাটতে না কাটতেই আবারও একই নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদীতে প্রতিনিয়ত নৌযান চলাচল করলেও অনেক সময় যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয় না। নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা এবং সন্ধ্যার পর নদীতে চলাচলের ক্ষেত্রে অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা মেঘনা নদীতে নৌযান চলাচলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন বন্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে নৌযান চলাচলে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

নিখোঁজ চারজনের স্বজনরা নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন। প্রিয়জনদের জীবিত উদ্ধারের আশায় তারা বারবার নদীর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। একদিকে বিয়ের আনন্দকে ঘিরে পরিবারটির ছিল উৎসবের প্রস্তুতি, অন্যদিকে নৌকাডুবির ঘটনায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোক ও উৎকণ্ঠায়।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে তৎপর রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে নৌকাডুবির প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন, সজীব, সামিয়া ও সামিন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে নদীতে অভিযান চলছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পিরোজপুরে ১৩ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়িসহ তিনজন আটক

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন