বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদ, অধিবেশন কক্ষ ছাড়লেন প্রতিনিধিরা

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তিনি পোডিয়ামে দাঁড়ানোর পরপরই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন। ফলে তার ভাষণের সময় কক্ষের বেশ কিছু আসন ফাঁকা হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, কক্ষে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকেরা তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান। তবে তাদের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

কক্ষ ত্যাগ করা প্রতিনিধিদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, তারা ‘ভণ্ড মানবাধিকারকর্মী’। ইরানে বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতার সময় এসব প্রতিনিধি কোথায় ছিলেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের স্বৈরশাসকেরা যখন নিরস্ত্র ইরানি নাগরিকদের হত্যা ও পঙ্গু করেছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?

এরপর কক্ষে থাকা অন্য প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি আরও কোনো নৈতিকভাবে কাপুরুষ ব্যক্তি এই কক্ষে থেকে থাকেন, তাহলে দয়া করে এখনই বেরিয়ে যান।

কনভেনশন সেন্টারের ছবি বিশ্লেষণ করে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় সৌদি আরব, সুদান, তিউনিসিয়া, উজবেকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, মন্টেনেগ্রো ও কিরগিজস্তানের আসনগুলো খালি ছিল।

এ ছাড়া জর্ডান, লিবিয়া, মার্শাল আইল্যান্ডস ও মরিশাসের আসনও ফাঁকা দেখা যায়। তবে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এসব দেশের কিছু প্রতিনিধি কক্ষে উপস্থিত ছিলেন, অন্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে বেরিয়ে যান।

নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভে হলিউড তারকারাসহ শতাধিক গ্রেপ্তার

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘে ভাষণকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ থেকে শতাধিক মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে হলিউড অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন এবং ‘হ্যাকস’ সিরিজের অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডারও রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের আগে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় ‘থেলমা অ্যান্ড লুইস’খ্যাত অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনকে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় বলে এএফপির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়।

‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ থেকে হান্না আইনবাইন্ডারকেও আটক করা হয়। ইহুদি সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো’ এবং ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক মুখপাত্র জানান, অনুমোদনহীন বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিক্ষোভকারীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থল অবরোধ করে রেখেছিলেন।

পুলিশের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর সদস্যরা কয়েক দফায় বিক্ষোভকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারা নির্দেশ অমান্য করে অবস্থান চালিয়ে গেলে কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে আটক ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি পুলিশ।

অন্যদিকে, কর্মসূচির আয়োজক ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, সেখান থেকে ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভে ৪০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানান তারা।

গাজা ইস্যুতে সারান্ডনের অবস্থান

গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে সুসান সারান্ডনের প্রকাশ্য অবস্থান নতুন নয়। চলতি মাসে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে পেশাগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সারান্ডনের দাবি, সম্প্রতি তার কয়েকটি সিনেমার কাজ বাতিল হয়েছে এবং কিছু এজেন্সি এখনও অন্যদের তাকে নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’, ‘ডেড ম্যান ওয়াকিং’ ও ‘দ্য উইচেস অব ইস্টউইক’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া ভাষণকে ‘মিথ্যায় ভরা’ বলে মন্তব্য করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, গাজায় ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আল জাজিরা হামাসের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

হামাস আরও অভিযোগ করেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হচ্ছে এবং স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অপরাধকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি এ অভিযোগকে ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়টিও ভাষণে তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। এসব ঘটনাকে কয়েকজন ‘কিশোর অপরাধীর’ কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, তিনি এ ধরনের সহিংসতা সমর্থন করেন না।

পড়ুন : নিউইয়র্কে শেহবাজের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রথম বৈঠক

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন