মাদারীপুরের কালকিনি থানার সামনে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে পোস্টার লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে এসব পোস্টার স্থানীয়দের নজরে আসার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে প্রকাশ্যে পোস্টার লাগানোর ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এনায়েত হোসেন হাওলাদার এবং ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কালকিনি থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের আশপাশসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে পোস্টারগুলো দেখা যায়।
পোস্টারে শেখ হাসিনার ছবি এবং তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা লেখা রয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে প্রকাশ্যে এমন পোস্টার লাগানোর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দলটির নেতাকর্মীদের এ ধরনের প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে থানার সামনে পোস্টার লাগানোর ঘটনায়। তাদের প্রশ্ন, পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে কীভাবে প্রকাশ্যে এসব পোস্টার লাগানো হলো।
সচেতন মহলের কয়েকজনের দাবি, ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং পোস্টার লাগানোর সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কেউ বিষয়টি দেখেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় পুলিশের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে কালকিনি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এনায়েত হোসেন হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, “আমাদের দেহে যতদিন প্রাণ আছে, ততদিন আমরা শেখ হাসিনার গুণগান গেয়ে যাব। জন্মদিন উপলক্ষে আমাদের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার-ব্যানার লাগিয়েছে। এতে আমাদের অপরাধ কী?”
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
পোস্টার লাগানোর বিষয়ে জানতে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “১০ মিনিট পরে ফোন দিচ্ছি ভাই, এসব বিষয়ে পরে জানাচ্ছি।” তবে পরে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পড়ুন : ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন রাসিক প্রশাসক


