ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্য, ইরানের প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশ ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এমন কাজের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার খবরে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি এই তিন মুসলিম দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর পর ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিতে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন। এসব প্রচেষ্টা ফল দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
বেসেন্ট আরও জানান, তুরস্ক ও ওমান তাদের দেশে মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। পাশাপাশি দেশগুলোর শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইরানের সঙ্গে বন্ধ করেছে লেনদেন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তেহরান যাতে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য আমাদের আরও কাজ বাকি রয়েছে এবং আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।’
নিষেধাজ্ঞার প্রধান তথ্যসমূহ
কারণ: আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের এভিয়েশন বা বিমান খাতসহ বিভিন্ন খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ।
পদক্ষেপ গ্রহণকারী দেশসমূহ:
তুরস্ক: দেশটির পক্ষ থেকে ইরানি এয়ারলাইনসের (বিশেষ করে মাহান এয়ার) ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ওমান: ওমানের পক্ষ থেকেও ইরানি বিমানের ফ্লাইট ও ল্যান্ডিং সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউইএ): আমিরাত সরকারও ইরানের সব এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছে।
অন্যান্য দেশের ভূমিকা: এই দেশগুলো ছাড়াও আজারবাইজান ও জর্জিয়ার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোও ইরানি ক্যারিয়ারের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এছাড়া ইরাক তাদের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ইরানের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া: ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর এই পদক্ষেপকে আমেরিকার সঙ্গে ‘সমন্বয় বা আনুগত্য’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এর ফলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পড়ুন : তারেক রহমানের পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে কী কী হলো?
সা/


