জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক একটি নিবেদিত দল গঠন করা হয়েছে। এই দলে ডেটা, এআই ও কৌশলগত পূর্বাভাস বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের মাফিজুল ইসলাম।
খলিলুর রহমানের টিমে থাকা তিনজন বাংলাদেশিকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়েছে জাতিসংঘ। তারা হলেন-আব্দুল আলিম, ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট; প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান, লিগ্যাল অফিসার; এবং মাফিজুল ইসলাম, এআই ও কৌশলগত পূর্বাভাস বিষয়ক জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা। এছাড়া আরও তিনজন বাংলাদেশি কর্মকর্তা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সাময়িক দায়িত্বে সেখানে কাজ করছেন।
কার্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণ পরিষদের কোনো সভাপতির কার্যালয়ে অতীতে শুধুমাত্র এআই নিয়ে কাজ করা দল ছিল না। প্রযুক্তিটির বৈশ্বিক নিয়মকানুন নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আলোচনা যখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, ঠিক তখনই এ উদ্যোগ নেওয়া হলো। নতুন দলটি এআই সুশাসন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্রক্রিয়ায় সভাপতিকে নীতিগত পরামর্শ দেবে, কার্যালয়ের কাজে ডেটা ও এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার এগিয়ে নেবে এবং কৌশলগত দূরদৃষ্টির মাধ্যমে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ আগেভাগে চিহ্নিত করবে।
যুদ্ধবিদ্ধস্ত দক্ষিণ সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ প্রমাণ করেছে, সময়মতো সঠিক ডেটা থাকলে মানুষের জীবন রক্ষা করা যায়। এআই নিয়ে বৈশ্বিক সিদ্ধান্তও প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া দরকার। সেই আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশসহ সব সদস্য রাষ্ট্রের কথা যেন সমান গুরুত্ব পায়, তা নিশ্চিত করাই তাদের কাজ।
২০২৫ সালে গৃহীত সাধারণ পরিষদের ৭৯/৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে এআই সুশাসন বিষয়ক বৈশ্বিক সংলাপ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিটি সংলাপের জন্য দুজন সহসভাপতি নিয়োগ দেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি, একজন উন্নয়নশীল এবং অন্যজন উন্নত দেশ থেকে। প্রথম সংলাপ হয়েছে গত জুলাইয়ে। দ্বিতীয়টি হবে ২০২৭ সালের ৩ ও ৪ মে নিউইয়র্কে, অর্থাৎ খলিলুর রহমানের মেয়াদেই। একই বছর বৈশ্বিক ডিজিটাল চুক্তির (গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট) উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনাও হওয়ার কথা।
খলিলুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব নেন ৮ সেপ্টেম্বর। এআইসহ উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসনকে তিনি তার মেয়াদের ছয়টি অগ্রাধিকারের একটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিন পর, ১০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে স্থায়ী প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে বহুপাক্ষিক এআই সুশাসন নিয়ে তিনি বক্তব্য দেন এবং দ্বিতীয় সংলাপের প্রস্তুতি শুরুর কথা জানান।
মাফিজুল ইসলামের কর্মজীবন শুরু হয় সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশে এমআইএস কর্মকর্তা হিসেবে। পরে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশ কার্যালয়ে ডেটা বিশ্লেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্মজীবনের বয়স ১৪ বছরে পা দিয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনের মানবাধিকার বিভাগে তথ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। রাজধানী জুবায় বেসামরিক সুরক্ষা ম্যান্ডেটের আওতায় তিনি বেসামরিক হতাহতের তথ্যভান্ডার, সহিংসতাপ্রবণ এলাকার মানচিত্র ও আগাম সতর্কতার পূর্বাভাস মডেল তৈরি করেন। মিশনের বেসামরিক সুরক্ষা ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে এসব ব্যবস্থা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিষয়ক বিশেষ কমিটিতে (সি-৩৪) উপস্থাপন করেন তিনি।
২০২১ সাল থেকে তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের আফ্রিকা বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টার কার্যালয়ের (ওসা) কৌশলগত ব্যবস্থাপনা ইউনিটে ডেটা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উন্নয়ন অর্থায়ন, অবৈধ অর্থপ্রবাহ ও পুঁজি পাচার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের ১২টি প্রতিবেদনে ডেটা ও বিশ্লেষণ সহায়তা দিয়েছেন। সাধারণ পরিষদের সব ভাষণ নিয়ে এআই-ভিত্তিক একটি অনুসন্ধান ও প্রশ্নোত্তর অ্যাপ্লিকেশনও তৈরি করেছেন তিনি। পাশাপাশি জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করেন।
পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী স্বর্নপদক পাচ্ছেন জবির ২৯ শিক্ষার্থী


