ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সংস্থার সদস্য দেশগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে নানা উদ্যোগ সামনে আসছে। এরই মধ্যে ফিফার নগদ রিজার্ভ থেকে সংস্থার ২১১ সদস্য দেশকে অতিরিক্ত তহবিল দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার নগদ রিজার্ভে থাকা বিপুল অর্থের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিতরণের বিষয়ে তিনি সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ফিফার নগদ রিজার্ভ থেকে প্রতিটি সদস্য দেশকে অন্তত এক কোটি ডলার করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল উয়েফা ও কনকাকাফ। তাদের সেই প্রস্তাবকে বিবেচনায় নিয়েই এগোচ্ছেন ইনফান্তিনো। ফিফার কাছে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের নগদ রিজার্ভের একটি অংশ অতিরিক্ত তহবিল হিসেবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিতরণের বিষয়টি এখন আলোচনায় রয়েছে।
সোমবার ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের কাছে পাঠানো ইনফান্তিনোর একটি চিঠি বিবিসি স্পোর্টের নজরে আসে। ওই চিঠিতে ফিফা সভাপতি জানিয়েছেন, যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে যতটা সম্ভব সর্বোচ্চ পরিমাণ অতিরিক্ত তহবিল বিতরণের প্রস্তাবকে তিনি সমর্থন করবেন। তবে ঠিক কত অর্থ বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক ঘোষণা করতে চাননি তিনি।
ইনফান্তিনো চিঠিতে লিখেছেন, অর্থের পরিমাণ নিয়ে আগে থেকেই কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে ফিফার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায়িত্বশীলভাবে যে সর্বোচ্চ পরিমাণ অতিরিক্ত তহবিল দেওয়া সম্ভব, তিনি সেটিকে সমর্থন করবেন। একই সঙ্গে অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং নিরীক্ষাযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ফিফা সভাপতির ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করলেই বিষয়টির সমাধান হবে না। এর সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং অর্থ বাস্তবায়নের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলো একত্র করে একটি সমন্বিত মূল্যায়ন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ফিফার মহাসচিবকে এ বিষয়ে সব প্রস্তাব একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। সেই মূল্যায়ন আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। কাউন্সিলের আলোচনার পরই অতিরিক্ত তহবিল বিতরণের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ফিফার বিপুল নগদ রিজার্ভ নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। গত বিশ্বকাপের পর ফুটবলের পরিচালনা ও বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে ফিফা এবং বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগের প্রস্তাব সামনে এসেছিল।
ওই প্রস্তাবের আওতায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব পরিচালনার জন্য একটি নতুন কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন কোম্পানিটির ২১ শতাংশ শেয়ার একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল। তবে জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে প্রস্তাবটি সামনে আসার মাত্র চার দিনের মধ্যেই বাতিল করা হয়।
প্রস্তাবটি বাতিল হলেও ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ওই বাণিজ্যিক প্রস্তাবের লক্ষ্য ছিল ফিফাকে আরও বেশি অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা দেওয়া, যাতে বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করা যায়।
এদিকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ বিতরণের উদ্যোগকে ফিফা সভাপতির ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও দেখা হচ্ছে। ২০২৭ সালের মার্চে চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইনফান্তিনো। ফলে নির্বাচনের আগে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং তাদের জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে অতিরিক্ত তহবিল বিতরণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনার পর সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে পারে। সেখানে কত অর্থ বিতরণ করা হবে, কীভাবে তা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করা হবে এবং কোন প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।
ফিফা সভাপতির পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতিও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।
সব মিলিয়ে ফিফার বিপুল নগদ রিজার্ভ থেকে সদস্য দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ এখন সংস্থাটির অন্যতম আলোচিত বিষয়। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে আর্থিক হিসাব, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকের পরই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।
পড়ুন:সিঙ্গাপুরের কাছেও হারল বাংলাদেশ
ইমি


