৫০ শয্যার হাসপাতাল। অথচ প্রতিদিন বহির্বিভাগে রোগী আসছেন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ জন। অন্তর্বিভাগে ভর্তি থাকছেন ৭০ থেকে ৮০ জন। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে ডেঙ্গু ও সাপে কাটার রোগী। সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ঢাকার ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমিদুল হক তিতাস জানান, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ছয়জন চিকিৎসাধীন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালু রয়েছে। রোগীদের এনএস-১, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এনএস-১ পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় স্যালাইনও মজুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে এলে প্রথমে কোয়াগুলেশন টেস্ট করা হয়। পরীক্ষায় বিষক্রিয়ার লক্ষণ পাওয়া গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
সম্প্রতি সাপে কাটা এক রোগীর মৃত্যু প্রসঙ্গে ডা. আহমিদুল হক তিতাস বলেন, ওই রোগীর কোয়াগুলেশন টেস্ট নেগেটিভ ছিল। পরে স্বজনরা অ্যান্টিভেনম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করার কথাও জানানো হয়েছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শেষ পর্যন্ত রোগীকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। পরে রোগীকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার চেষ্টা করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রেফারের পর রোগীকে দ্রুত নির্ধারিত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল কি না এবং চিকিৎসা পেতে কোনো ধরনের বিলম্ব হয়েছিল কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যথাসময়ে রেফার করা হয়েছিল।
রোগীর চাপে গেটেই জট
প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ রোগীর বহির্বিভাগে আসা-যাওয়া সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দারোয়ান এবং আনসার সদস্য রাখা হয়েছে।
ডা. আহমিদুল হক তিতাস বলেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে হাসপাতালের প্রবেশপথে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। গেট বন্ধ রেখেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। পরে যানজট কমাতে গেট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নজরে দালালচক্র
হাসপাতাল ঘিরে দালালচক্রের তৎপরতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, আগের তুলনায় দালালদের তৎপরতা কিছুটা কমেছে। তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চিহ্নিত দালালদের বিষয়ে উপজেলা মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দালালদের তৎপরতা ঠেকাতে প্রতি রোববার এবং সপ্তাহের আরও একদিন পুলিশি টহলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ফার্মা প্রতিনিধিদের প্রবেশে সময়সীমা
হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ যাতায়াত বন্ধেও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা তারা হাসপাতালে ভিজিট করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাউকে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
ডা. আহমিদুল হক তিতাস বলেন, সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিদিনের রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
পড়ুন : প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের হেরোইনসহ একজনকে আটক করেছে এসআরবি-৫


