বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা-ভাঙচুর, সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

হকাররা জানান, সকালে সিটি করপোরেশনের লোকজন ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করতে সেখানে আসেন। হোপ মার্কেটের সামনের দোকান উচ্ছেদের সময় বিদ্যুতের তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন হকাররা। পরে তারা সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালান।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল পৌনে ১১টার দিকে হোপ মার্কেট এলাকা থেকে কয়েকজন আনসার সদস্য দৌড়ে মিরপুর ১৩ নম্বরের দিকে যাচ্ছেন। এ সময় ২০ থেকে ৩০ জন লোক তাদের লক্ষ্য করে লাঠি ও ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন।

হোপ মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পশ্চিম পাশের একটি জায়গায় আগুন জ্বলছে। এর মধ্যে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে পুলিশের একটি পিক-আপ সেখানে গেলে হকাররা সেটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এর কয়েক মিনিট পর ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সেখানে বিভিন্ন মালামাল ছিল বলে জানান হকাররা।

এ সময় কয়েকশ হকার সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। সিটি করপোরেশনের দুটি গাড়িতে ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন অনেকে। গণমাধ্যমকর্মীদেরও সেখানে বাধা দেওয়া হয়। আগুনে পোড়া গাড়ির ছবি তুলতে গেলে সমকালের আলোকচিত্রী মাহবুব হোসেন নবীনের ওপরও হামলা চালান হকাররা।

ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি।

এসব ঘটনার জন্য ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ দায়ী করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ফুটপাত দখল করে রাখা ফ্যাসিবাদের দোসরদের ইন্ধনে উচ্ছেদ অভিযানের সময় সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করা হয়েছে।

মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কর্মসূচি চলমান থাকবে। স্থানীয় সাধারণ জনগণের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ করে দিতে ফুটপাত উদ্ধারের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সাংবাদিকরাও নির্যাতিত হয়েছেন। পরিকল্পিতভাবে মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে এবং ডিএনসিসির পক্ষ থেকেও মামলা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজকে সিটি করপোরেশনের নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করা হচ্ছে এবং এটি সিটি করপোরেশনের নৈতিক দায়িত্ব। মিরপুরের সাধারণ মানুষ ফুটপাত দখলমুক্ত চায়—আজকের ঘটনায় সেটি প্রমাণ হয়েছে। ভবিষ্যতে কারও ইন্ধনে আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিরপুরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, আমি মিরপুরের সন্তান এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। ফুটপাত দখলের মতো কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ চলবে।

পড়ুন : এলপি গ্যাসের বাজারে চরম অস্থিরতা, সরকারের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন