নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর মাঠে গড়ায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ। প্রতিকূল আবহাওয়া ও মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে কয়েক দিন ধরে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সেমিফাইনালে আগে ব্যাট করে পাকিস্তানকে ১১২ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৩ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। চার দিনের বেশি সময় উইকেট কাভারের নিচে থাকায় পাকিস্তান বেশিরভাগ ওভারই স্পিনারদের দিয়ে করিয়েছে। সাইম আইয়ুব ২ ওভার বল করে ৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। মূলত তিনিই বাংলাদেশের রান আটকে রাখেন।
জাপানে আজ সকাল থেকেই ছিল তীব্র সূর্যের তাপ। সেই গরম উপেক্ষা করে শেডহীন গ্যালারিতে উপস্থিত হন বাংলাদেশের সমর্থকেরা। কেউ জার্সি পরে, কেউ ছোট পতাকা হাতে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ বলে দলকে সমর্থন দেন। ফুটবলপ্রধান জাপানে লিটন-মুস্তাফিজদের খেলা দেখতে জড়ো হন বাংলাদেশি প্রবাসীরাও।
খেলা শুরু হওয়ার পর অবশ্য সমর্থকদের খুব বেশি চার-ছক্কার উৎসব দেখার সুযোগ হয়নি। ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ায় পাওয়ার প্লে রাখা হয় চার ওভার। তবে সেই সময়েই বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৩ রান করে।
বৃষ্টির কারণে উইকেট দীর্ঘ সময় কাভারের নিচে থাকায় স্পিনারদের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান এশিয়ান গেমসে পূর্ণ শক্তির দল না পাঠালেও বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল ব্যাটিংয়ে খুব একটা স্বস্তি পায়নি।
তাওহীদ হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রানের কার্যকর ইনিংস না খেললে বাংলাদেশের রান ১০০ পার করা কঠিন হয়ে পড়ত। হৃদয়, সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক সৈকত ছাড়া দলের আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। অধিনায়ক লিটন দাসও হতাশ করেছেন। মাত্র ৩ বলে ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি।
১৩ ওভারের ম্যাচেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল ধীরগতির। ৬.৩ ওভারে ৪৫ রানেই ৪ উইকেট হারায় দল। এরপর হৃদয় ও সৈকতের জুটিতে আসে ৪৩ রান। তবে দুই রানের ব্যবধানে দুজনই ফিরে গেলে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের সম্ভাবনাও কমে যায়।
পাকিস্তানের তুলনামূলক অনভিজ্ঞ বোলিং লাইনআপও বাংলাদেশকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়। সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। বাংলাদেশকে আরও কম রানে আটকে রাখার সুযোগ থাকলেও পাকিস্তান ১৫টি ওয়াইড দিয়েছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে আউটফিল্ডও কিছুটা ধীর ছিল।
সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে অন্তত রৌপ্য পদক নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। আর পাকিস্তানের কাছে হারলে ৩ অক্টোবর ভারত ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচের বিজিত দলের বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য লড়তে হবে।
পড়ুন : ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, পরিস্থিতি আরও খারাপের শঙ্কা
সা/


