ফেনীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাস রওনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মায়ের পৈতৃক জেলা ফেনীতে এটিই তার প্রথম সফর। দিনব্যাপী এই সফরে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এ সফরকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়েও তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে তারেক রহমানের সফরকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। ফেনী শহর থেকে শুরু করে পরশুরাম ও ফুলগাজীর বিভিন্ন এলাকায় সফরকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রস্তুতি ও উৎসাহ দেখা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়েও মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে।
বন্যা সমস্যা নিরসন, নদীভাঙন রোধ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি রয়েছে ফেনীবাসীর। জেলার উত্তরের ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষিণাঞ্চলে নদীভাঙন রোধের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরি ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাও স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি। নির্বাচনি প্রচারে এ ধরনের প্রত্যাশা পূরণের কথা তারেক রহমান নিজেই বলেছিলেন- এমনটি করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এসব দাবির বাস্তবায়ন নিয়েও নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তা পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। সভাস্থলগুলোকে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট—এই তিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। পরশুরাম ও ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। তবে সব মিলিয়ে কতজন সদস্য মোতায়েন থাকবেন, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সভাস্থলগুলোকে তিনটি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হবে। বিশেষ নিরাপত্তা কার্ডধারীরা রেড জোনে প্রবেশ করতে পারবেন। নির্ধারিত কার্ডধারীদের জন্য থাকবে ইয়েলো জোন। আর রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে থাকা হোয়াইট জোনে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন।’
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের ফেনী সফরের কথা থাকলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরে নতুন সূচি অনুযায়ী ১ অক্টোবর সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
পড়ুন : আজ ফেনী যাচ্ছেন তারেক রহমান, থাকছে দিনভর নানা কর্মসূচি
সা/


