বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বেবিচকে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে (সিভিল এভিয়েশন) সরকারি প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব ও মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসেছে মন্ত্রণালয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর (২০২৬) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যেভাবে অর্থ আত্মসাৎ

যশোর, সৈয়দপুর ও রাজশাহী (শাহ মখদুম) বিমানবন্দরের রানওয়ে সংস্কারের একটি প্রকল্পের (ডিপিপি) ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)। তবে শর্ত ছিল, প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করতে হবে। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আমিনুল হাসিব অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গত তিন বছরেও সেই শর্ত পালন করেননি। এটি সিসিজিপির আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন হলেও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের দপ্তরে ঠিকমতো সময় না দিয়ে বিভিন্ন মহলে তদবির নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

এই দুই কর্মকর্তা দুর্নীতির শত শত কোটি টাকা দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে অর্থের বিনিময়ে দুদকের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে হাত করে তারা একটি ভুয়া চিঠি তৈরি করান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব ও মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকের কোনো মামলা নেই। সেই ভুয়া চিঠির সুযোগ নিয়ে আমিনুল হাসিব সম্প্রতি পদোন্নতিও বাগিয়ে নিয়েছেন।

দুর্নীতির দায়ে ২০১৯ সালেও চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন আমিনুল হাসিব। এছাড়া তিনি সরকারি কোনো ছুটি বা অনুমতি (জিও) ছাড়াই চলতি বছরের জানুয়ারিতে গোপনে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও কানাডা ভ্রমণ করেন। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে তার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে নিজ দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি দেশে ফিরে আসেন।

দুদক ও মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এতদিন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনের পত্রের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে ২৩ আগস্ট (২০২৬) তারিখে চেয়ারম্যান বরাবর পত্র প্রেরণ করা হলেও এখনও কেন এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, সে বিষয়ে পুনরায় ১০ সেপ্টেম্বর (২০২৬) অতি জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি প্রতিকূলে বুঝতে পেরে দুর্নীতিগ্রস্ত এই দুই কর্মকর্তা যেকোনো মুহূর্তে গোপনে দেশত্যাগ করতে পারেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।

পড়ুন : দেশে যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন