সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও বনরক্ষীদের ওপর হামলা: স্বামী-স্ত্রী ও বিষ বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার এবং বনরক্ষীদের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনায় দুই অভিযুক্তসহ বিষ সরবরাহকারী সেলিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন সোহেল শেখ (৪৫), লাইজু বেগম (৩০) ও মো. সেলিম মিয়া (৫২)। অভিযুক্ত সোহেল শেখ ও লায়জু বেগম স্বামী – স্ত্রী। গ্রেপ্তার হওয়া দম্পত্তি কে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বিষ সরবরাহকারী হিসেবে সেলিম মিয়ার নাম বেরিয়ে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মোংলা থানা পুলিশ সেলিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
‎
‎পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর সুন্দরবনের দাকোপ এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার সময় বনরক্ষীরা বাধা দেন। এ সময় বিষ প্রয়োগকারীরা ধারালো দা নিয়ে বনরক্ষীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে খুলনার দাকোপ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
‎
‎ঘটনার পর পুলিশ মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সোহেল শেখ ও লাইজু বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত বিষের সরবরাহকারী হিসেবে সেলিম মিয়ার নাম জানান তারা। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোংলা পৌর শহরের শেখ আবদুল হাই সড়কে অবস্থিত নিজস্ব সার ও কীটনাশকের দোকান থেকে সেলিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের খুলনা জেলার দাকোপ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
‎এদিকে, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার কারণে বনাঞ্চলের জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় বিষের ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাছের প্রজাতির বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা যায়। বিষের প্রভাবে মাছের প্রজনন, ডিম ও পোনা ধ্বংসের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে মাছের প্রজাতি অর্ধেক বিলুপ্ত হওয়ার দাবিটির নির্দিষ্ট গবেষণার সূত্র ও তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
‎
‎এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত থাকবে, তারা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
‎
‎পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধ করতে শুধু মাছ শিকারিদের নয়, এর পেছনে থাকা বিষের সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন:গাংনীতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন