টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউয়ের জর্জটাউন থিয়েটার হলে আগামী ৪ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় উদ্বোধন হতে যাচ্ছে নাটক ‘আন্ধার জয়’।
আইরিশ নাট্যকার লেডি গ্রেগরির ক্লাসিক নাটক দ্যা রাইজিং অফ দ্যা মুন আশ্রয়ে নাটকটি পুনর্রচনা ও নির্দেশনায় নাট্যকার-অভিনেত্রী-নির্দেশক হৃদি হক।
অস্টিনের প্রায় ৫০ জন নাট্য কর্মীকে নিবিড় কর্মশালার মাধ্যমে প্রস্তুত করে আন্তর্জাতিক ‘অফ-ব্রডওয়ে’ ধাঁচের নতুন নাট্যপ্রয়াস ‘আন্ধার জয়’। আইরিশ নাট্যকার লেডি গ্রেগরির ক্লাসিক নাটক এর মূল ভাবনা থেকে নেয়া এ প্রযোজনাটি বিদ্রোহ ও আত্মপরিচয়ের গল্প। দ্য রাইজিং অফ দ্যা মুন নাটকের অন্তর্নিহিত ভাবনাকে ঘিরে নাটক অাঁন্ধার জয়।একদিকে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে বিবেকের তাড়না এবং এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে একজন মানুষের ভেতরের সুপ্ত আত্মপরিচয় জেগে ওঠা নিয়েই নাটকটি।নাটকে সংযোজিত হয়েছে ব্যঙ্গাত্মক সুর, গতিময় শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, জটিল কোরিওগ্রাফি এবং মনমাতানো গায়কী।

অাঁন্ধার জয় নাটকটির রচয়িতা এবং নির্দেশক হৃদি হক বলেন, “পান্ডুলিপি লেখার সময় থেকেই প্রযোজনারপ্রথম রিহার্সেল শুরু হয়ে যায় আমার ক্ষেত্রে। স্ক্রিপ্টের মূলদ্বন্দ, নাটকীয়তা, চরিত্রের পারস্পরিক বোঝাপড়াকে পরিষ্কারভাবে বুঝে তারপর তার মঞ্চভাষা খুঁজে নেওয়াটা আমার নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় ৫০ জন বিভিন্ন দেশের নাট্যকর্মীকে নিয়ে কাজ করার কারণে সবাইকে একটি সুতায় গাঁথাটা ছিলো চ্যালেন্জিং এবং বিস্তৃত প্রক্রিয়া। আমি চেয়েছি সংগীত,কোরিওগ্রাফি, আলো, সেট, চলন ও অভিনয় আঙ্গিকের মধ্যে একটা অভিন্ন সত্বায় তুলে আনা। আশা করা যায় দর্শক শ্রোতা আন্ধার জয় প্রযোজনায় সেই একীভূত রূপটাই দেখবেন বলে বিশ্বাস। নাটকটির আবহে রয়েছে রাত, চাঁদের আলো, অপেক্ষা, অন্ধকার, দূর সমুদ্রের ইঙ্গিত এবং তার ভেতরে ধীরে ধীরে জেগে ওঠা এক ধরনের উদ্বেগ।
হৃদি হক আরও বলেন, আমি চাই দর্শক শুধু নির্দিষ্ট সময়ে এসে একটি নাটকই দেখবেন না। প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই যেন তাঁরা একটি নাট্য জগতে এর মধ্যে প্রবেশ করেন। আর নাটক শেষে পর্দা নেমে এলেও কিছু দৃশ্যকল্প, কিছু সুর, কিছু আবেগ এবং কিছু প্রশ্ন যেন তাঁদের সঙ্গে থেকে যায়। সেটাই আমাদের নাটক মঞ্চায়নের মূল ভাবনা ও বিন্যাস। আন্ধার জয়-কে আমি শুধু একটি বাংলা নাট্যপ্রযোজনা হিসেবে দেখতে চাই না। এটি আমার কাছে সাংস্কৃতিক বিশ্বায়নের এর একটি অভিজ্ঞতা এবং মানচিত্র। আমার বিশ্বাস নাটকটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা থিয়েটারকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।”

নাটকের নির্মাণের নেপথ্যে যারা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে আন্ধার জয় প্রযোজনার সুর, সংগীত এবং আবহসংগীত পরিকল্পনায় কামরুজ্জামান রনির কাজে ফুটে উঠছে বিশ্বের মাঝে একখন্ড বাংলার মেঠো সুর। মঞ্চ পরিকল্পনায় সাজু খাদেম মঞ্চ মায়ায় ফুটিয়ে তুলছে মানুষের মনোজগৎ। প্রযোজনা ব্যবস্থাপনায় মুনির ফয়সাল এবং স্টেজ ব্যবস্থাপনায় থমাস ডিলরিয়ের দায়িত্ব পালন বৃহত্তর এই প্রযোজনার সবাইকে সারিবদ্ব করছে। অস্টিন নাট্য মঞ্চ প্রধান তাসনিম হোসেইনের সার্বিক সহযোগিতা নাটকটিরসৃজনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। নাকটিতে অভিনয় করেছে অর্ধশতাধিক তরুণ অভিনেতা-অভিনেত্রী।
হৃদি হকের নির্মিত চলচ্চিত্র বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে বেস্ট ফিল্ম, বেস্ট ডিরেক্টরসহ বিভিন্ন শাখায় ৩০টিরও বেশি স্বীকৃতি পেয়েছে। একইভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থিয়েটার ডিরেক্টর এবং অ্যাকটর হিসেবে প্রযোজনা ও আন্তর্জাতিক মঞ্চায়নে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, পাচ্ছেন এবং সেখানেও কাজের মূল্যায়ন তাকে নবনব সৃজন কাজে উদ্বুদ্ধ করছে। নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির শিল্পচর্চা যখন দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছায়, সেই অনুভূতিটা তাকে বড় ও মহৎ শিল্প সৃজনে অনুপ্রেরণা দেয়।
পড়ুন : কাশফুল থেকে দুর্গাপূজা, শরতের আবহে পূজা চেরী


