দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬০৮ জন। মারা যাওয়া ছয় জনের মধ্যে দুই জন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার।
শনিবার (৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৪৯ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই মারা গেছে ১৪৮ জন। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৬০৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৩৬৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৬২১ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৮ হাজার ৪৮২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৫২৫ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৭৬ জন, বরিশালে ২১৫ জন, চট্টগ্রামে ৩১৯ জন, ময়মনসিংহে ৭৯ জন, রংপুরে ৬২ জন এবং রাজশাহী ১৩২ জন।
ডেঙ্গু জ্বরের সাধারণ লক্ষণ
তীব্র জ্বর: হঠাৎ খুব বেশি জ্বর (১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত) আসা।
তীব্র ব্যথা: তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, এবং পেশি ও জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা (এজন্য একে “হাড়ভাঙা জ্বর” বা breakbone fever-ও বলা হয়)।
ত্বকে ফুসকুড়ি: জ্বরের ২ থেকে ৫ দিনের মধ্যে শরীরে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
অন্যান্য লক্ষণ: বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং রুচি কমে যাওয়া।
মারাত্মক ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণ
জ্বর কমে যাওয়ার পর (সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের মাথায়) রোগটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যাকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম বলা হয়। এই লক্ষণগুলো দেখলে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে:পেটে তীব্র ব্যথা বা অনবরত বমি হওয়া, মাড়ি, নাক বা ত্বক ফেটে রক্তপাত হওয়া অথবা বমি ও মলের সাথে রক্ত যাওয়া। শ্বাসকষ্ট হওয়া বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া। রক্তে প্লাটিলেট (Platelet) দ্রুত কমে যাওয়া এবং তীব্র দুর্বলতা বা ছটফটানি হওয়া।
আক্রান্ত হলে করণীয়
ডেঙ্গু ভাইরাসের সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে সঠিক পরিচর্যা ও প্রাথমিক চিকিৎসায় রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে:
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
তরল খাবার: রক্তচাপ ঠিক রাখতে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার যেমন—খাবার স্যালাইন (ORS), ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও সুপ খাওয়াতে হবে।
ওষুধের সতর্কতা: জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য কেবলমাত্র প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন (Aspirin), আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথানাশক (NSAID) ওষুধ খাওয়া যাবে না। এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
নিয়মিত পরীক্ষা: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তের সিবিসি (CBC) এবং প্লাটিলেট কাউন্ট পরীক্ষা করতে হবে।
পড়ুন : ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১ হাজার ৯৭২ জন


