ইসরাইলি আগ্রাসনের আগে ও পরের অবরুদ্ধ গাজার স্যাটেলাইট ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন মার্কিন অভিনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ছবিগুলো প্রকাশ করে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকার বেসামরিক মানুষের জন্য দ্রুত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে গাজার আগের ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক স্যাটেলাইট ছবি তুলে ধরেন। এসব ছবির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক অভিযানে অঞ্চলটির ব্যাপক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।
ছবিগুলো শেয়ার করে জোলি লেখেন, ‘এখন গুগল আর্থ খুললেই দেখা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।’ তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্যে যুদ্ধের প্রভাব এবং ধ্বংসযজ্ঞ সরাসরি দেখার সুযোগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
দীর্ঘ ওই পোস্টে জোলি সরাসরি ইসরাইলের নাম উল্লেখ না করলেও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গাজার পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান জোলি। তার পোস্টে বলা হয়, উপত্যকাটিতে প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। যুদ্ধ ও অবকাঠামোগত ধ্বংসের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো নানা ধরনের বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
জোলি তার পোস্টে শীত মৌসুম সামনে আসার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শীত আসার আগেই গাজার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য দ্রুত নিরাপদ ও উপযুক্ত আশ্রয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন জোলি। খাদ্য ও আশ্রয়ের পাশাপাশি চিকিৎসাব্যবস্থার সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
গাজার হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে জোলি বলেন, যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্রুত হাসপাতালগুলোতে পৌঁছানো জরুরি।
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও অ্যাঞ্জেলিনা জোলি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মানবিক ইস্যুতে সরব। যুদ্ধ, শরণার্থী সংকট ও বেসামরিক মানুষের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এবার গাজার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের মানবিক প্রভাবের দিকটি সামনে আনলেন তিনি।
তার প্রকাশিত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধের আগে ও পরের দৃশ্য পাশাপাশি দেখানোর কারণে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা সহজে বোঝা যাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।
গাজার বেসামরিক মানুষের মানবিক সংকটের মধ্যে জোলির এই আহ্বান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সেখানে আশ্রয়, চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপরই এখন জোর দিচ্ছেন তিনি।
পড়ুন:প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয় সংকুচিত, আজ বিশ্ব প্রাণী দিবস
ইমি/


