দিনাজপুরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও তালাকের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

দিনাজপুরে স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতন এবং প্রতারণার শিকার হয়ে তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগে সঠিক বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৪ অক্টোবর) দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোছাঃ হুমায়রা পারভীন রুমু জানান, তিনি বাহাদুর বাজার এলাকার মৃত হামিদুর রহমান ও নুসরাত বানুর মেয়ে। পিতৃহারা সংসারে তার মা অনেক কষ্টে বড় বোনকে বিয়ে দিয়েছেন। এরপর শিক্ষার্থী থাকাকালীন ভালো প্রস্তাব পেয়ে ঢাকার জিগাতলা ধানমন্ডি এলাকার সাহাবুদ্দিন ও রেহেনা পারভীনের ছেলে ব্যবসায়ী রায়হান সাহার সাথে গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ সালে তার বিয়ে হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, সঞ্চয়ের সব টাকা শেষ করে ধুমধামের সাথে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়েতে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরের মধ্যে ৫ লাখ টাকার গহনা বাবদ পরিশোধ দেখিয়ে বাকি টাকা বকেয়া রাখা হয়। এছাড়া মা ও আত্মীয়-স্বজনরা তার সুখের কথা চিন্তা করে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার (প্রায় ১৬ লাখ টাকা) ও প্রায় ২ লাখ টাকার ঘরের আসবাবপত্র এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা বিয়ের আপ্যায়ন খরচ বহন করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের পর তার স্বামী ব্যবসার নামে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। বিধবা মায়ের পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে তার উপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। শাশুড়ির প্ররোচনায় স্বামী স্বর্ণালংকার রেখে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে মীমাংসার জন্য স্বজনরা শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাদের চড়াও হয়ে মারপিট করা হয়। আহত হয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তিনি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এরই মধ্যে তালাকের নোটিশ পান তিনি। নোটিশে মনের অমিল ও বনিবনা না হওয়ার কারণ দেখানো হয়। তালাকের সংবাদ শুনে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাধ্য হয়ে গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলাটি তদন্তের জন্য কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে পাঠালে থানার এসআই সেলিমুর রহমান রহস্যজনকভাবে আসামীর পক্ষ নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন, যেখানে উল্লেখ করেন স্বামী-স্ত্রীর কলহের কারণে পারিবারিকভাবে বিচ্ছেদ নিষ্পত্তি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বলেন, “আমার সুখের আশায় সর্বস্ব শেষ করে মা আমাকে বিয়ে দিয়েছেন। আমার স্বামী যদি আমাকে নিয়ে সংসার না করে তবে নিয়ম মোতাবেক দেনমোহর ও ক্ষতিপূরণ এবং খোরপোশ দিয়ে সামাজিকভাবে তালাক দেবে। তা না করে আমার পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েছে।”
তিনি তার বিয়েতে দেওয়া মায়ের গহনা ও দেনমোহর বাবদ ৫ লাখ টাকার গহনা ও বাকি টাকা ফেরতসহ আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পড়ুন:মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুতিদের হামলায় বাংলাদেশের নিন্দা

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন