রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার আশ্বাস পাওয়ার পর রাতের কর্মসূচি থেকে ফিরে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। মামলা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে অনড় রয়েছেন তারা।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মামলা করতে হবে এবং আগামীকাল বেলা ১২টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। যেসব অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও রয়েছে।
এ ছাড়া মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত রাতের মধ্যেই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি জানান সাংবাদিকরা।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবারের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হলে সাংবাদিকরা আপাতত কর্মসূচি থেকে ফিরে যান। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজকের মধ্যে মামলা করা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা/একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান, হল প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন।
সরেজমিনে ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামের খোঁজে জিয়াউর রহমান হলের গেটে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের হাতে বস্তাভর্তি রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, ব্যাজবলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।
পরে প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অস্ত্র হাতে দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা ভিডিও করতে এগিয়ে গেলে প্রক্টরের উপস্থিতিতেই সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এরপর আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজায় তালা দেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। এতে আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায়। অন্য সাংবাদিকরা তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদের পুতে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।”
পড়ুন : আগামী এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে: অর্থমন্ত্রী
সা/


