“শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা রক্ষা, মর্যাদার উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ৬০ বছর”- এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকেই শিক্ষকসমাজ ও শিক্ষা সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা চত্বর।
সকালে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। শিক্ষক সমাজের সুশৃঙ্খল পদযাত্রা স্থানীয় লোকজনের মাঝেও এক ধরনের ইতিবাচক উদ্দীপনা ও শ্রদ্ধাবোধের সৃষ্টি করে। পরে র্যালিটি পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
র্যালি-পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় প্রাণবন্ত আলোচনা সভা। শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন বক্তারা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান আনসারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান।
বক্তব্য পর্বে অংশ নেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অ্যাডভোকেট এম এ জিন্নাহ, দুর্গাপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিপ্লব বিকাশ পাল চৌধুরী এবং সুসং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান সিরাজসহ স্থানীয় প্রথিতযশা শিক্ষকবৃন্দ। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার নাসির উদ্দিন। এতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা নিছক চাকরিজীবী নন; তারা একটি জাতির মেরুদণ্ড সোজা রাখার মূল কারিগর। শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালে পাঠদানের পাশাপাশি তারাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে স্বপ্ন বুনে দেন, জ্ঞানের আলোয় সমাজকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করেন এবং নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের দীক্ষা দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। তাই শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক জাতি বিনির্মাণে শিক্ষকদের অবদানকে কখনোই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
বক্তারা আরও গভীর আস্থার সঙ্গে উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করার অর্থই হলো পরোক্ষভাবে সমগ্র জাতির ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা। শিক্ষার গুণগত মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে হলে শিক্ষকদের পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ এবং সম্মানজনক ও চাপমুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করার কোনো বিকল্প নেই। এর জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ- উভয়কেই আরও বেশি দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হতে হবে।
পড়ুন : নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু


