যৌন নির্যাতন নিপীড়ন চলামান অপরাধ হয়ে দাড়িঁয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবনতা বৃদ্ধি হচ্ছে। শিক্ষকদের হায়নার চরিত্রের কাছেই হার মানছে সমাজ। সমাজ গড়ার কারিগর যখন নিজেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ওই সময় সভ্যতা প্রত্যাশা করা একটি দূর্লব শব্দ।
রাজশাহীর চারঘাটে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলো মনোয়ার হোসেন মাখন। সে উপজেলার বাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। ইউসুফপুর ইউনিয়নের পাশুন্ডিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। এর আগেও একাধিক বিদ্যালয়ে মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান অভিভাবকরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও বিদ্যালয় তথ্যমতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ছুটির আগেই ওই শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে ঘটে যাওয়া বিষয়টি তার মাকে বলে, অভিযুক্ত শিক্ষক তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করার চেষ্টা করেছে। তবে অন্য শিক্ষার্থী ওই শিক্ষককে নিষেধ করলে তাকে ধমক দিয়ে চুপ করে থাকতে বলেন।
পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানান। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জিল্লুর রহমানকে অবহিত করেন। পরে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকে অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করেন।
সভায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকছেন। বুধবার সকালে সরেজমিন বাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মনোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়নি।
বাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ শাহেরা খাতুন বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনোয়ার হোসেন মাখন এর আগে যে তিন বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন, সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে মারধর করা হয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাজতবাস করে। পরে তাঁকে জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে নাওদাড়া ও বামনদিঘী বিদ্যালয়েও একই অভিযোগ ছিল ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজা সরকার বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মাখনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠায় তাঁকে এখান থেকে বদলি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগও করেছিলেন।’
অভিযুক্ত শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মাখনের বলেন, ছোট বাচ্চাদের আদর সোহাগ দিয়ে পড়াশোনা করাতে হয়। আমি শিক্ষক হিসাবে তাকে স্নেহ করি, এর বাইরে কিছু না। জয়পুর বিদ্যালয়ের ঘটনার কথা বললে তিনি বলেন, সেখানে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলাম। এখানেও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। তার সাথে কাদের কিসের ষড়যন্ত্র জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
চারঘাট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ ফাতেমা খাতুন বলেন, বাদুড়িয়া স্কুলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনেছেন। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই শিক্ষককে শোকজ করেছে। সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বিষয়টির খোঁজ নিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ হাতে পেলে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন:চলচ্চিত্র নৃত্য পরিচালক সমিতির শপথগ্রহণ, নূতনকে আজীবন সম্মাননা
ইমি/


