৭৭ মামলায় জর্জরিত ছাত্রদল নেতা সুলতান মাহমুদের অভিনব সমাজসেবা

শুধুমাত্র বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হয়ে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও অংশগ্রহণ ঠেকাতে একে একে ৭৭ টি রাজনৈতিক মামলায় জর্জরিত করেছেন সুলতান মাহমুদকে। শুধু তাই নয়, বাড়ি ঘরে হামলা,জমি জবর দখল, ১১ বারের জেলহাজতে ১৭ বারে মোট ৭৮ দিন রিমান্ডেও দমাতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাবেক রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সুলতান মাহমুদকে।

বিগত ১৭ বছরে আওয়ামীলীগের আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত এ ছাত্রদল নেতা দাউদপুর ইউনিয়নের বেলদী গ্রামের মরহুম আব্দুল কাদিরের ছেলে। তার পিতা স্থানীয় বেলদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেলদী দারুল হাদিস ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার দাতা সদস্য ও সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। সুলতান মাহমুদ ২০০৫ সালে এসএসসি পাশের পরই দাউদপুর ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে যোগদান করেন। পরবর্তী তে শিক্ষাজীবনে স্নাতক পাশ করেন তিনি। এরমাঝে ছাত্রদলের রূপগঞ্জ উপজেলা আহবায়ক, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি এমনকি সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এর আগে ছাত্রজীবনেই শীতলক্ষ্যা পাড়ের সুলতানের বাড়ি বেলদী গ্রামের পূর্বতীরে বিরাবো গ্রামের কৃতি সন্তান প্রয়াত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে প্রবেশ করে সময়ের ব্যবধানে সাহসীকতা, রাজনৈতিক একনিষ্ঠতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্থান করে নেয়া সুলতানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সফলতার পাশাপাশি রয়েছে শতাধিক ক্ষতচিহ্ন। এসবের মাঝে বিগত আওয়ামী সরকারের সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তায় হিংসাপরায়ণ হয়ে তাকে থামাতে একে একে ৭৭ টি রাজনৈতিক হয়রানীতে বিনা অপরাধে সাজানো ঘটনায় কথিত মামলা দিয়ে ১১ বার জেল হাজতে রেখে ১৭ বার রিমান্ডে নিয়ে চরম নির্যাতন করা হয়েছে সুলতান মাহমুদকে। শুধু তাই নয়, রিমান্ডে নিয়ে বারবার ছাত্রদল ছেড়ে দিয়ে বিদেশ চলে যাওয়ার শর্ত জুরে দিয়েছিলো আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহীনি। কিন্তু সুলতান দমে যাননি। লড়েছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের নিয়ে পুরোদমে রাজপথে।

বিগত ২০২০ সালে করোনাকালীন জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে দুঃস্থদের সহায়তায় তার রাজনৈতিক গুরু আবু মোহাম্মদ মাসুমকে সাথে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়ে প্রশংসিত হন তিনি। তবে স্বাভাবিক চলাচলে আওয়ামীলীগের বাঁধার মুখে বিয়ে বাড়িতে সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান করলেও হামলার শিকার হতেন সুলতান গং৷ রাজপথে গুলি খেয়ে একাধিকবার গুরুতর আহত হন সুলতান। এমনকি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি শ্রাবণ ও সাধারন সম্পাদক জুয়েলের সাথে গাড়ীতেও হামলার শিকার হন সুলতান মাহমুদ। এককথায় ত্যাগী বলতে যা বুঝায় তার ফিরিস্তি যেন এক শত পাতায় গ্রন্থ।

২০২৪ সালের শেখ হাসিনা পতনেও জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় সুলতান মাহমুদ ও তার দলীয় সহকর্মীরা ছিলেন পুরোদমে তৎপর। রূপগঞ্জ ছাড়াও রাজধানীতে ছিলেন বীরদর্পে রাজনীতির মাঠে৷ নানাবাঁধা, ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে সুলতান মাহমুদ হাসিনা সরকার পতনের পর পূর্বের চেয়ে তিনগুন শক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন সমাজসেবার নেশায়৷ পেশায় একজন ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদের নিজ আয় রোজগারের ৭০ ভাগই ব্যয় করছেন সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে জানা যায়, সুলতান মাহমুদ দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ভোটারদের মনজয় করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। অভিনব সমাজসেবার তালিকায় নিজ খরচে রাস্তা ঘাট নির্মাণ, মেরামত, সংস্কার, খাল খনন,পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাদক বিরোধী সমাবেশ,সভা, মসজিদ মাদরাসায় অনুদান, দরিদ্র ও এতিমদের মাসিকহারে নিয়মিত দানে সংযুক্ত থাকা, কৃষকদের সার বীজ দেয়া,পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থাসহ নানা কাজ নিজ অর্থায়নে করে দেন তিনি। দাউদপুরে ইতোমধ্যে ৪ টি পাড়া মহল্লার যাতায়াত সড়ক, ১৮ টি রাস্তার মেরামত করা, দুটি খালের পানি প্রবাহ সক্রিয় করতে পরিচ্ছন্নতায় কাজ সম্পন্ন করেছেন৷ এসব করেছেন শুধুমাত্র নিজ আয় রোজগার থেকেই৷

সুলতান মাহমুদ ছাত্রদলে থেকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও একটি পক্ষের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার এখনো থেমে নেই। তবে সুলতান মাহমুদ বিচলিত নন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতান মাহমুদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ ১ রূপগঞ্জ আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু স্লোগান দিয়েছেন স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়বেন। আমরা তারই নির্দেশনায় বিএনপি সরকারের সুনাম রক্ষায় জনগণের জন্যে কাজ করছি। রূপগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি অবহেলিত ইউনিয়ন দাউদপুর। কৃষি ও ইটভাটা শিল্প সমৃদ্ধ দাউদপুরের রাস্তা ঘাট, উন্নয়ন চাহিদা ব্যাপক। কিন্তু সরকারী বাজেট কম। ফলে নিজের এলাকা নিজে গড়তে উদ্যোগ নিয়েছি। দুটি দায়িত্ববোধ থেকে।

একটি দলীয় সুনাম অর্জন অপরটি স্বপ্নের রূপগঞ্জের স্বপ্নের দাউদপুর গঠন। এ ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সভাপতির বাড়ি। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তারাই আমার পাথেয়। এমপি মহোদয় আমার ব্যক্তিগত সমাজসেবায় আমার খোঁজ খবর নেন,আমাকে উৎসাহ, নির্দেশনা প্রদান করেন বলেই জনগণের জন্যে আমি সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারি। তারপরও আমি বাঁধা,ষড়যন্ত্রের বাহিরে না। যদিও আওয়ামী নির্যাতনের কাছে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিছুই না। আল্লাহর উপর ভরসা করে পথ চলি। জনগণের জন্যে কাজ করি জনগণ আমাকে তাদের ভালোবাসা দিবেন। তবে ভোটারদের কাছে অনুরোধ কখনো টাকায় নিজের বিবেক বিক্রি করবেন না। সচেতন হয়ে নিজেদের যোগ্য জনপ্রতিনিধিকে গ্রহণ করুন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ ও নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে মতবিনিময়

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন