পটিয়ায় মা ও স্কুল-কলেজপড়ুয়া দুই ছেলেকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারী ও তার স্কুল-কলেজপড়ুয়া দুই ছেলেকে মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে।
‎
‎বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মজুমদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে পটিয়া থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ খালেদা বেগম (৩৫)।
‎
‎অভিযোগে খালেদা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খরিদা জায়গা জোরপূর্বক দখলকে কেন্দ্র করে রেজাউল করিম ও তার স্বজনদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মেনে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।
‎
‎ঘটনার দিন বিকেলে নিজের বসতবাড়ির উঠানে পুরোনো পানি চলাচলের পাইপ সংস্কারের কাজ করার সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন খালেদা বেগম। এর কারণ জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
‎
‎খালেদা বেগমের অভিযোগ, এ সময় এক নম্বর অভিযুক্ত রেজাউল করিম হাতে থাকা এসএস পাইপ দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। আঘাতটি তার মুখের ওপরের ঠোঁটে লেগে ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। আরেক অভিযুক্ত তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‎
‎এ ছাড়া এক অভিযুক্ত তার চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে বুকে ও তলপেটে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
‎
‎মায়ের চিৎকার শুনে তার দুই ছেলে মেহেদী হাসান অভি (১৭) ও মো. মুনতাছির (১৫) এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎অভিযোগ অনুযায়ী, মেহেদী হাসানকে ধারালো কিরিচ দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তার ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়। অপর ছেলে মুনতাছিরকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তার নাকে ফাটা রক্তাক্ত জখম এবং মাথায় নীলা-ফোলা জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
‎
‎পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় মামলা করলে খালেদা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর, হত্যা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎পরে খালেদা বেগম ও তার দুই ছেলেকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রও থানায় দেওয়া অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রেয়াজ উদ্দীন কায়সার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।
‎
‎অপর অভিযুক্ত মো. সাকিব বলেন, দীর্ঘদিনের জায়গা-জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে তারা হামলা করেননি। বরং আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা আঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
‎
‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়েছি। বিষয়টি কতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিব।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বোয়ালখালীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

সা/
‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন