আফগানিস্তানের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ম্যাচটি।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স করছে বাংলাদেশ। গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে টেস্টে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সেই আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে টাইগাররা।

টেস্টে এখন পর্যন্ত দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাব সমান। দুইবারের সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান জিতেছে একটি করে ম্যাচ। ফলে এবারের লড়াইয়ে সেই সমতা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে দুই দলের সামনেই।

এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি অধিনায়ক শান্তর ব্যক্তিগত মাইলফলক অর্জনেরও সুযোগ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে এটি হবে তাঁর দশম জয়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া সাফল্যকে আত্মবিশ্বাসের উৎস হিসেবে দেখলেও আগের ফল নিয়ে পড়ে থাকতে চান না শান্ত। তাঁর মতে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি সম্পূর্ণ নতুন চ্যালেঞ্জ, যেখানে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের ভালো একটি সিরিজ গেছে। কিন্তু সেটি এখন অতীত। এটি নতুন কন্ডিশন, নতুন প্রতিপক্ষ। তাই আমাদেরও সেভাবেই পরিকল্পনা করতে হবে।’

বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেন।

আফগানিস্তান একাদশ: রেহমাত শাহ (অধিনায়ক), ইকরাম আলিখিল, সেদিকউল্লাহ আতাল, আব্দুল মালিক, হাশমাতউল্লাহ শাহিদি, শাহিদউল্লাহ কামাল, ইসমাত আলাম, কাইস আহমাদ, জিয়া উর রাহমান আকবার, মোহাম্মদ সালিম সাফি ও ইয়ামিন আহমাদজাই।

পাকিস্তানকে এশিয়া কাপে হারানোর স্মৃতি রয়েছে আবুধাবিতে। শারজাহ ও দুবাইয়ে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে এবারই প্রথম টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো সাদা পোশাকের ক্রিকেটে মাঠে নামার আগে তাই নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ শান্তদের।

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর থেকে সময়টা ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশের। ম্যাকাইয়ে দেড় দিনে টেস্ট হার এবং জাপানে এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে টানা দুই টি-টোয়েন্টিতে পরাজয়—সব মিলিয়ে জয়ের ধারায় ফেরার লক্ষ্য নিয়েই আফগানিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে দলটি।

অভিজ্ঞতা ও র‍্যাঙ্কিংয়ের বিচারে আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। কিন্তু আবুধাবির তীব্র রোদ ও প্রায় ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়তি পরীক্ষায় ফেলতে পারে ক্রিকেটারদের। বিশেষ করে জাপানের কন্ডিশন থেকে ছয়জন ক্রিকেটার মাত্র দুই দিন আগে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় তাঁদের মানিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন কোচ ফিল সিমন্স।

এ প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, ‘এ মুহূর্তে এটিই একমাত্র সমস্যা যে ছেলেরা জাপান থেকে এসেছে, সেখানে তাদের খুব বেশি কিছু করার ছিল না। তারপর এই আবহাওয়াতে এসে, মাত্র দুদিনের মধ্যে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। এটি নির্ভর করে তারা কীভাবে মানিয়ে নেয়, তার ওপর। কারণ, দিন শেষে এটি একটি মানসিক বিষয়। তবে আজ গরমের মধ্যে তাদের প্রথম দিন হিসেবেও বেশ ভালোই মনে হয়েছে।’

নতুন কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা শান্তর

এই টেস্ট আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। তবে আগামী দেড় মাসে চারটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। সেই প্রস্তুতির দিক থেকেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর বিশ্বাস, নতুন পরিবেশ ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবে তাঁর দল। ম্যাচের আগে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের একটি ভালো সিরিজ গিয়েছে। তবে ওটা অতীত। এটি নতুন কন্ডিশন, নতুন প্রতিপক্ষ। সে জন্য আমাদের সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের কিছু খেলোয়াড় একটু আগেই চলে এসেছে এবং একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। সেটি এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তাই আমি বিশ্বাস করি, খেলোয়াড়রা প্রস্তুত এবং তারা কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানিয়ে নেবে।’

দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ে সমতা

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সুখকর ও হতাশাজনক—দুই ধরনেরই। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম সাক্ষাতে ২২৪ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয়ে সেই পরাজয়ের জবাব দেয় টাইগাররা। দুই দলের দুটি টেস্টে জয় একটি করে।

আফগানিস্তানের বর্তমান দলেও এসেছে পরিবর্তন। টেস্ট ক্রিকেটে আর নেই লেগস্পিনার রশিদ খান। নতুন অধিনায়ক রহমত শাহ ও প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাসের নেতৃত্বে দলকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আফগানিস্তান।

বাংলাদেশের ব্যাটারদের লেগস্পিনের বিপক্ষে দুর্বলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বোলিং আক্রমণ সাজানোর ইঙ্গিত দিয়েছে আফগানরা। এ কারণে বাঁহাতি স্পিনার শরাফউদ্দিন আশরাফ ও নাঙ্গিয়ালিয়া খারোটিকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দলে রাখা হয়েছে লেগস্পিনার কায়েস আহমেদ ও খলিল গুরবাজকে। পাশাপাশি এক বছরের বেশি সময় পর ফিরেছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার জিয়া-উর-রহমান।

বোলিংয়ে বৈচিত্র্য থাকলেও আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সেদিকুল্লাহ অতল ও আবদুল মালিকের মাধ্যমে ইনিংস শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। তিন নম্বরে নামতে পারেন আক্রমণাত্মক ব্যাটার রহমানুল্লাহ গুরবাজ। অধিনায়ক রহমত শাহ ও অভিজ্ঞ হাশমতুল্লাহ শাহিদি দলটির ব্যাটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভরসা। অলরাউন্ডার শহিদউল্লাহ কামালও রাখতে পারেন কার্যকর ভূমিকা।

লিটন-মুশফিকের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভাবাচ্ছে দলকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শেষ পাঁচ ইনিংসে লিটনের সংগ্রহ মাত্র ২ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পাশাপাশি এশিয়ান গেমসেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দুই টেস্টে মুশফিকের সংগ্রহ ছিল মোট ৭০ রান। মিডল অর্ডারে দুজনই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হওয়ায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাঁদের কাছ থেকে বড় ইনিংস প্রত্যাশা করছে দল।

অন্যদিকে, অসুস্থতা কাটিয়ে সম্প্রতি দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অধিনায়ক শান্ত। ফলে তাঁর নিজের প্রস্তুতিতেও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ভালো ফল পেতে ব্যাটিংয়ের উন্নতি, কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং বোলিংয়ে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন—এই বিষয়গুলোই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

পড়ুন : মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ, বাড়ল তেলের দাম

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন