দেশ গঠন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রমে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পাবনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উত্তরবঙ্গীয় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ। ‘দেশ বিনির্মাণে মুক্তিযোদ্ধাদের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন’ শীর্ষক এ সমাবেশে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পাবনা জেলা পরিষদের রশিদ হল মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী এ সমাবেশ ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের তথ্যমতে, এতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের প্রজন্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের বীরত্বগাথার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের অবহেলা কিংবা বৈষম্যের শিকার করা যাবে না। সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী ও দেশবিরোধী কোনো মহল যেন ভবিষ্যতে সংসদে স্থান নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দাবি করে কোনো স্বৈরাচারী শক্তিকেও নতুন করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল বিএনপি। তাঁর উত্তরসূরি বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন ও সাহসী দেশনেত্রী। তাঁর পুত্র বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমান দেশপ্রেমিক এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ একমাত্র তারেক রহমানের হাতেই নিরাপদ ও সুরক্ষিত।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা শুধু দেশের স্বাধীনতা অর্জনেই অবদান রাখেননি, বরং স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনেও তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা, মতামত এবং অবদান কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা সমুন্নত রাখা, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা ও দেশপ্রেমকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দেশ গঠনের উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।
পড়ুন : ত্রিস্রোতা বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়ার পূর্ণ্যস্নান ও পূজার্চনায় হাজারো পূর্নার্থীর ঢল


