সারের ডিলারশিপ না পেয়ে পদ ছাড়লেন যুবদল নেতা

তিন পুরুষ ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা, একাধিক মামলা এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতা। পরিবারের প্রায় ৪০ বছরের সারের ব্যবসা থাকলেও নতুন করে ডিলার নিয়োগে জায়গা হয়নি তাদের। সারের ডিলারশিপ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

পোস্টে সাদ্দাম লেখেন, ‘আজ থেকে বিএনপি অঙ্গসংগঠনের সকল প্রকার পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। GOOD BYE।’

সাদ্দাম হোসেনের দাবি, তার দাদা প্রয়াত মোহাম্মদ শরাফত আলী মাস্টার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার বাবা মোহাম্মদ আজহার আলী দড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিন পুরুষ ধরে তাদের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অতীতে তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা ছিল বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে বাবা-ছেলে একসঙ্গে মামলার আসামি হয়ে কারাবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেও সারের ডিলারশিপ না পাওয়ায় তিনি ও তার পরিবার হতাশ হয়েছেন।

সাদ্দাম বলেন, তার বাবা প্রায় ৪০ বছর ধরে সারের ব্যবসা করছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারের ডিলার নিয়োগের সময় তার বাবা বিএনপির এবং তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ডিলারশিপ পাননি। এরপর থেকে অন্য এক ডিলারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে সারের ব্যবসা করে আসছিলেন তারা।

২০২৩ সালের আগস্টে ঢাকায় বিএনপির একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তারা অনেকদিন এলাকায় থাকতে পারেননি বলেও দাবি করেন সাদ্দাম। সে সময় সংসার চালাতে তার স্ত্রী ও মা দোকান খুলে সারের ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলে জানান তিনি।

সাদ্দামের ভাষ্য, বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় এবং তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সারের ব্যবসায় যুক্ত থাকায় এবার ডিলারশিপ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নতুন ডিলার নিয়োগে তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

সম্প্রতি নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তারা আবেদন করেন। আবেদনে বিএনপি নেতাদের বেশিরভাগ নেতা ও তার পরিবারের নামে সার ডিলারের তালিকা প্রকাশ পায়। তবে গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত নতুন ডিলারদের তালিকায় তাদের নাম আসেনি। সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়নে নতুন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. রুহুল আমীন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাদ্দাম বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। এখন বিএনপি ক্ষমতায়, নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা ডিলারশিপ পেলাম না। দলের কাছে কখনো টাকা-পয়সা চাইনি। প্রয়োজনের সময় যদি কিছুই না পাই, তাহলে রাজনীতি করে লাভ কী? আমাদের তো ব্যবসা করে চলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকলে এ নিয়ে কোনো ক্ষোভ থাকত না। এখন আমাদের পেটে লাথি দেওয়া হলো। এলাকায় মুখ দেখাতে পারছি না। দল থেকে নয়, আপাতত পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।’

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বলেন, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন। উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেই ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় নতুন সারের ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকা অনুযায়ী, সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়নে নতুন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এস এম ট্রেডার্স এর মো. রুহুল আমীন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কুষ্টিয়ায় জনসম্মুখে লালন মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন