শুধু কর্মচারী নিয়োগ নয়, বরং ব্যবসা পরিচালনা ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছেন সাবেক মোতাওয়াল্লি অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী। মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাঁচটি মার্কেটকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজীগঞ্জে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৭ থেকে ২০ হাজার মানুষের জীবিকার সম্পর্ক রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা কার্যক্রম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগের প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ ওয়াকফ এস্টেটের উন্নয়ন, সম্পদ সংরক্ষণ ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি মার্কেট নির্মাণ, চারটি মাদ্রাসা পরিচালনা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের কার্যক্রম, মসজিদ সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সম্পত্তির পরিসর সম্প্রসারণ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বহু পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ প্রসারিত হয়েছে। বিশেষ করে মার্কেটকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
উদ্যোগগুলোর অন্যতম লক্ষ্য ছিল দান-অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ওয়াকফ এস্টেটকে আয়নির্ভর, স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসা। পরিকল্পিতভাবে সম্পদের ব্যবহার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়।
ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারীর উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মানুষকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, বিদ্যমান সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।
হাজীগঞ্জের মতো এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বেকারত্ব কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোগটির সমর্থকেরা। তাঁদের মতে, সরকারি অর্থ বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সম্পদ ও পরিকল্পনার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পড়ুন : কাশিমপুরে ‘হামকো’ নামে নকল ব্যাটারির পানি, ট্রাক জব্দ; আটক ৩


