আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বিদ্যমান জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হওয়া আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চায়, নতুন নির্বাচিত সরকারও তা-ই চায়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে আগের তুলনায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। পাশাপাশি যারা পুঁজিবাজার থেকে আগে বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়েছিলেন, তারা আবারও ফিরে আসছেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, বেসরকারি খাতের সহায়তায় অর্থায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও বিশ্বব্যাংকের একটি যৌথ প্রতিনিধিদল শিগগিরই ঢাকায় আসবে।
ব্যাংককে শুরু হওয়া এই বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বের ১৯০টি দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা অংশ নিচ্ছেন। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলাকালীন এই সম্মেলনে আইএমএফের সঙ্গে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন তিন বছর মেয়াদি ঋণচুক্তি ছাড়াও বাজেট সহায়তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য ও সার আমদানি, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আইএমএফ ঋণচুক্তি ও সাম্প্রতিক বিতর্কের পটভূমি:
এদিকে, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি বাতিল এবং সংস্থাটির কোনো শর্ত মেনে না নেওয়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পূর্ববর্তী একটি বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইএমএফের সাথে সম্পাদিত ঋণ চুক্তি তিনি বাতিল করে দিয়েছেন এবং বৈশ্বিক এই সংস্থাটির দেওয়া শর্তসমূহ বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে অর্থবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের গত জুনেই নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে আবেদন করেছে এবং এ বিষয়ে আলোচনার জন্য চলতি মাসেই সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরে আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া চলতি মাসেই ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচি কীভাবে পাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে। ফলে অর্থমন্ত্রী আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি বাতিলের কথা বললেও, বর্তমান সরকারের চাওয়া নতুন ঋণ কর্মসূচিও এর আওতায় পড়বে কি না—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানা গেছে যে আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচি এখনও বহাল রয়েছে এবং চলতি মাসে ঢাকায় আসা সংস্থাটির প্রতিনিধিদল ঐ ঋণের ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা করবে। এ বিষয়ে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মতামত চাওয়া হলে তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণে নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ও অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মন্তব্য করেছেন, সরকার প্রকাশ্যে আইএমএফের শর্তবিরোধী অবস্থান নিলেও দেশের বর্তমান যে আর্থিক পরিস্থিতি, তাতে সংস্থাটির আর্থিক সহায়তা ও ঋণ এড়িয়ে চলা সরকারের পক্ষে বেশ কঠিন হবে।
পড়ুন : আন্দোলনের ২১তম দিনে তালা ভেঙে উপাচার্যের প্রবেশ
সা/


