সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার জেরে গত তিন দিনে বাংলাদেশ থেকে রিয়াদগামী মোট ৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ঢাকা ও রিয়াদ উভয় প্রান্তেই তীব্র অনিশ্চয়তা ও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, হুথিদের হামলার কারণে গত শনিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মোট ৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১টি, সৌদিয়ার ৩টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৩টি ফ্লাইট রয়েছে। এসব ফ্লাইটে মোট ৩ হাজার ১২ জন যাত্রী যাতায়াতের কথা ছিল। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বিমানবন্দরটি ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত ৫ বার হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত রবিবার ও শনিবারের হামলায় পাকিস্তানি নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। এমনকি গত বৃহস্পতিবার হুথিরা বিমানবন্দরের অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকেও লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়, যাতে এক পাইলটের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার না করতে বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের প্রতি নতুন করে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে।
যাত্রীদের চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা:
ফ্লাইট বাতিলের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগ দিতে না পারলে ভিসার মেয়াদ, চাকরি হারানো কিংবা নিয়োগকর্তার শর্ত নিয়ে জটিলতায় পড়ার শঙ্কা রয়েছে তাদের। দেশের দূরদূরান্ত থেকে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকায় এসে অনেকে এখন কাউন্টারে কাউন্টারে ছোটাছুটি করছেন।
বিমানবন্দরে উপস্থিত এক প্রবাসী জানান, ছুটি কাটিয়ে রবিবার দুপুরে তার সৌদি আরব ফেরার কথা থাকলেও ফ্লাইট বাতিলের পর পরবর্তী ফ্লাইটের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছিলেন না তিনি। একই সঙ্গে রিয়াদের দিকেও দেশে ফেরার অপেক্ষায় আটকে আছেন প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী।
এই পরিস্থিতি এড়াতে অনেক যাত্রী ভারত হয়ে মুম্বাই হয়ে বিকল্প উপায়ে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করলেও সেখানেও ট্রানজিট ও বোর্ডিং না পাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকা-মদিনা বা ঢাকা-জেদ্দা রুটের টিকিটের খোঁজ করতে গিয়ে টিকিটের চড়া দাম ও অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন যাত্রীরা।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার সময় নিশ্চিত করার এবং ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা
হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে আসা এবং রিয়াদ হয়ে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৫০০ যাত্রী আটকা পড়েন। এ ছাড়া রিয়াদ থেকে বাংলাদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও আটকে পড়েন। তাদের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টার্মিনাল-৩-এ সৌদিয়া এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪, রিয়াদ এয়ারের আরএক্স১৭ এবং ইউএস-বাংলার ইউএস২৮১ ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে আসা এবং ফ্লাইনাস, ফ্লাইএডিল ও ফ্লাইরিয়াদে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ১০০ জন যাত্রীর আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের মেরিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে আসা ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রিয়াদ-ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি-৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আলখোবার স্থলবন্দর দিয়ে বাহরাইন যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করা হয়েছে।
পড়ুন : রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ১…
সা/


