অবশেষে চালু ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা ট্রাফিক পুলিশ বক্স

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালু হয়েছে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্মিত ট্রাফিক পুলিশ বক্স। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্বস্তির আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তবে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় এখনো পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার পাশাপাশি চালক ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম শুরুর পর এ পর্যন্ত ৭ থেকে ৮টি মামলা দেওয়া হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি নির্মাণের পর কিছুদিন পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরবর্তী সময়ে জনবলসংকটের কারণে সেখানে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বক্সটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় এর সামনের অংশ অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ধামরাই-গুলিস্তান রুটের বাস ও হকারদের দখলে চলে যায়। পাশাপাশি বক্সের চারপাশে আবর্জনা ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

এতে গুরুত্বপূর্ণ এ বাসস্ট্যান্ডে যানজট নিরসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রী, পথচারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি আবার চালু হওয়ায় যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড ধামরাই উপজেলা সদর ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সংযোগস্থল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টাঙ্গাইল ও কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যানবাহন এ পথে মহাসড়কে প্রবেশ করে। এ ছাড়া ধামরাই পৌরসভা, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ধামরাই বাজার এবং আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের অন্যতম প্রবেশপথ এটি।

বাসস্ট্যান্ডটির উত্তর পাশে রয়েছে স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানা এবং দি একমি ল্যাবরেটরিজ নামে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যাতায়াতের কারণেও এ এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চাপ থাকে। বিশেষ করে সকাল ৬টা থেকে ৮টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত যানজটের তীব্রতা বাড়ে। কারখানার ছুটির সময় শ্রমিকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়।

ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় নিয়ম ভঙ্গকারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, উল্টো পথে চলাচল বন্ধ এবং বাসস্ট্যান্ডের সড়ক দখলমুক্ত করার বিষয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে শুধু পুলিশ বক্স চালু করলেই হবে না, নিয়মিত পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন এবং ধারাবাহিক তদারকিও প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ফিরোজ প্রধান বলেন, ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা নিয়ম ভঙ্গকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। এ পর্যন্ত ৭ থেকে ৮টি মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে জনবলসংকটের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী সব জায়গায় দায়িত্ব পালন করে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম নিয়মিত ও গতিশীল রাখা হলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে বাস, অটোরিকশা ও সিএনজির নির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করা, অবৈধ দখল সরানো এবং উল্টো পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

দীর্ঘদিন পর ট্রাফিক পুলিশ বক্স চালু হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। এখন তাদের প্রত্যাশা, জনবলসংকট কাটিয়ে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডকে যানজটমুক্ত ও চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।

পড়ুন : আইএমএফের সাথে জটিলতা সমাধানের চেষ্টা চলছে: অর্থমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন