ঢাকা উত্তর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে কারা, চলছে নানা হিসাব-নিকাশ

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সাংগঠনিক ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।

নতুন কমিটির সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্য সচিব মোস্তফা জামান। এ ছাড়া সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম. কফিল উদ্দিন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, সাবেক জ্যেষ্ঠ সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে শীর্ষ দুই পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এ জন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

সভাপতি পদে একাধিক নাম আলোচনা এসেছে, সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্য সচিব মোস্তফা জামানের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম. কফিল উদ্দিন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের নামও আলোচনায় এসেছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, নেতাকর্মীদের সমন্বয় এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হতে পারে। বিশেষ করে মহানগরের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর সক্ষমতা নতুন নেতৃত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনসহ কয়েকজন। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো এ আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

এদিকে, সদ্য সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জামানকে ঘিরেও নতুন সভাপতি নেতৃত্বের আলোচনায় আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তার পূর্ব অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ের বিষয়গুলো নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন তার অনুসারী ও দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ।

দলীয় নেতাকর্মীদের অপর একটি অংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে সভাপতি পদে এম. কফিল উদ্দিনকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তাদের মতে, নতুন কমিটিতে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে শুধু অতীতের পদ-পদবি নয়, বরং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের রেকর্ড, সামাজিক সম্পৃক্ততা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে এসব বিষয়ে দলীয় নীতিনির্ধারকদের মূল্যায়নই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখবে।

দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নেতাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, গ্রহণযোগ্যতা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পৃথক কয়েকটি গ্রুপ কাজ করছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক এবং মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে গঠিত ৫১ সদস্যের ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

নতুন কমিটির সামনে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দলীয় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় ডিএনসি’র অভিযানে মাদক জব্দ: তরুণ গ্রেফতার, নারী পলাতক

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন