বন্দরে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতাধিক স্থাপনা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এহসান চেয়ারম্যান মার্কেটসহ তিন শতাধিক দোকানপাট, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিনের নেতৃত্বে এস্কেভেটর (বেকু) দিয়ে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযানে বন্দর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদরুল আলম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রেলওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও বন্দর থানা পুলিশের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে কয়েকশ দোকানপাট, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নবীগঞ্জের আলোচিত এহসান চেয়ারম্যান মার্কেটসহ কয়েকটি বহুতল মার্কেটও রয়েছে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

ক্ষতিগ্রস্তদের কয়েকজন জানান, তাঁদের অনেকে দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমিতে লিজ নিয়ে কিংবা বিভিন্নভাবে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছিলেন। উচ্ছেদে দোকানপাট ও বসতবাড়ি হারিয়ে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “নোটিশ দেওয়া রেলওয়ের নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও এভাবে এসে সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে, তা ভাবিনি। আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেল। আমরা গরিব বলেই আমাদের ঘরবাড়ি ও দোকান উচ্ছেদ করা হলো। অথচ পাশের প্রভাবশালী কয়েকজনের বাড়িতে লাল দাগ দেওয়া সত্ত্বেও সেগুলোতে হাত দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতেই এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। দখলদার ৩০ বা ৪০ বছর ধরে থাকলেও রেলওয়ের জমিতে অবৈধ দখলদারদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি জমি সম্পূর্ণ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, কয়েকজন দোকানদারকে নিজ দায়িত্বে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উচ্ছেদে দোকানপাট ও বসতবাড়ি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পূর্বধলায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আরও ১ আসামি গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন