পূর্বধলায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আরও ১ আসামি গ্রেপ্তার

সম্পর্কের তিক্ততায় ভেঙেছিল সংসার। বিচ্ছেদের পরও প্রাক্তন স্বামীর পাতা এক ভয়ংকর ফাঁদে পড়ে নির্মমতার শিকার হতে হয় এক নারীকে। নেত্রকোনার পূর্বধলায় সংঘটিত সেই চাঞ্চল্যকর দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মাসুদকে (১৮) অবশেষে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় এসআরবি-১৪ (সিপিএসসি, ময়মনসিংহ) এর অধিনায়কের পক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এরআগে, এদিনভোররাতে পূর্বধলার কান্দুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নেত্রকোনার যুবক আনারুল ইসলামের (২২) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ওই নারী। বনিবনা না হওয়ায় পরবর্তীতে আনারুল তাকে তালাক দেন। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কথা বলার অজুহাতে প্রাক্তন স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন আনারুল। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে জোরপূর্বক জনশূন্য এক এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আনারুল ও তার সহযোগীরা মিলে ওই নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

এমন অমানবিক ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী ৩১ ডিসেম্বর পূর্বধলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে।

তবে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিরবচ্ছিন্ন তদন্ত চালিয়ে যায় এসআরবি-১৪। দীর্ঘ ৯ মাসেরও বেশি সময় পলাতক থাকার পর গত ৪ অক্টোবর ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে প্রধান আসামি আনারুলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তারা। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাত ৩টা ৫ মিনিটে এসআরবি-১৪ এর জালে ধরা পড়ে এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি মাসুদ।

এসআরবি জানায়, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে তারা সর্বদা বদ্ধপরিকর। গ্রেফতারকৃত মাসুদকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর হলেও আসামিরা ধরা পড়ায় ভুক্তভোগীর পরিবারে ন্যায়বিচারের আশা নতুন করে জেগেছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় ডিএনসি’র অভিযানে মাদক জব্দ: তরুণ গ্রেফতার, নারী পলাতক

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন