বাবার নিথর দেহ সামনে রেখে মেয়ের আকুতি-“অধিকার না পেলে হবে না দাফন!”

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে এক অভূতপূর্ব ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বাড়ির উঠানে পড়ে রয়েছে বাবার নিথর মরদেহ, অন্যদিকে সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে দাফন আটকে দিয়েছেন তাঁরই মেয়ে। বাবার মৃত্যুর শোক ছাপিয়ে সেখানে এখন বড় হয়ে উঠেছে নায্য হিস্যা পাওয়ার আকুতি আর পারিবারিক দ্বন্দ্বের চিত্র।​ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন বেপারী। তাঁর ছেলে ইদ্রিস আলী এবং মেয়ে হালিমা বেগম।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজির উদ্দিন বেপারীর মৃত্যুর পর পারিবারিকভাবে দাফনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এমনকি মাইকিং করে এলাকাবাসীকেও দাফনের সময় জানানো হয়েছিল। কিন্তু দাফনের ঠিক আগমুহূর্তে আপত্তি তোলেন মেয়ে হালিমা বেগম। তাঁর সাফ কথা—বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বাবার দাফনে সম্মতি দেবেন না।

​হালিমা বেগমের অভিযোগ, বার্ধক্য ও অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলী সুকৌশলে বাবার সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এর ফলে পৈতৃক সম্পত্তিতে তিনি সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

​এ ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শোকার্ত পরিবেশের পাশাপাশি শুরু হয় নানা গুঞ্জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ৬ নম্বর ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতারা মীমাংসার উদ্যোগ নেন। শালিসে হালিমা বেগমকে নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

​হালিমা বেগম অনড় থেকে জানান, নির্দিষ্ট কোনো আর্থিক সমঝোতা বা অনুদান নয়, তিনি চান বাবার সম্পত্তিতে তাঁর নায্য ও আইনি অধিকার। অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাবার দাফন হতে দেবেন না বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

​এদিকে একদিকে বুকভাঙ্গা কান্না ও বাবার মরদেহ, অন্যদিকে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মেয়ের এমন অনড় অবস্থান পুরো এলাকায় এক আবেগঘন ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। তবে সম্পত্তি কীভাবে বা কী প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে ছেলে ইদ্রিস আলীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র ও আইনি কাগজপত্র যাচাই করা হলে এই সম্পত্তি বিরোধের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার মতো এমন ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপোসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সমাধান এলেই দ্রুত জানাজা ও মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক এ বিরোধের সমাধানে স্থানীয়রা চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন উপাচার্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন