টেনিসের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ২০২৬ সালের শেষে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছেন জার্মান তারকা আলেকজান্ডার জভেরেভ। সাংহাই মাস্টার্সের তৃতীয় রাউন্ডে স্পেনের কার্লোস আলকারাজ অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যাওয়ায় বছর শেষে র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকার সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে জভেরেভের। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং চোট কাটিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য অর্জন করতে যাচ্ছেন এই জার্মান টেনিস খেলোয়াড়।
সোমবার সাংহাই মাস্টার্সের তৃতীয় রাউন্ডে বেলজিয়ামের জিজু বার্গসের কাছে ৭-৫, ৭-৬ (৭-৪) গেমে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেন আলকারাজ। এই পরাজয়ের ফলে ২০২৬ সালের শেষে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখলের গাণিতিক সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায় স্প্যানিশ তারকার। এর ফলে জভেরেভের বছর শেষে এক নম্বরে থাকার পথ আরও পরিষ্কার হয়ে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছেন ইতালির ইয়ানিক সিনার। তার রেটিং পয়েন্ট ১১ হাজার। অন্যদিকে, ৯ হাজার ৭২০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জভেরেভ। তবে চোটের কারণে বছরের বাকি সময়ের জন্য কোর্টের বাইরে চলে গেছেন সিনার। ফলে জার্মান তারকার সামনে শীর্ষস্থান দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সিনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়িয়ে র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠে আসতে জভেরেভকে অন্তত ২ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বছর শেষে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন জভেরেভ। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য মৌসুমটা দারুণ কেটেছে। বছর শেষে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকব, এটা জানা স্বপ্ন পূরণের মতো।’ তার এই বক্তব্যে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর পাওয়া সাফল্যের আনন্দ ফুটে উঠেছে।
চলতি বছরের শুরুতে র্যাঙ্কিংয়ের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বছরের শুরুতে আলকারাজের পয়েন্ট ছিল ১২ হাজার ৫০ এবং সিনারের ছিল ১১ হাজার ৫০০। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থানে থাকা জভেরেভের পয়েন্ট ছিল মাত্র ৫ হাজার ১১০। অর্থাৎ, দুই শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় অনেক পিছিয়ে থেকেই বছর শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নিজের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ব্যবধান কমিয়ে আনেন জার্মান তারকা।
সিনার ও আলকারাজের চোট এবং দীর্ঘ সময় কোর্টের বাইরে থাকার ঘটনাও র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব বদলে দিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনুপস্থিতিই নয়, গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টগুলোতে জভেরেভের সাফল্যও তাকে শীর্ষস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে বছরের বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি।
২০২৬ সাল জভেরেভের ক্যারিয়ারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। চলতি বছরের জুনে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা অর্জন করেন তিনি। এরপর গত মাসে ইউএস ওপেনেও শিরোপা জেতেন ২৯ বছর বয়সী এই টেনিস তারকা। পরপর দুটি বড় সাফল্য তার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার পথ সুগম করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দুই টুর্নামেন্টের কোনোটিতেই তাকে সিনার কিংবা আলকারাজের মুখোমুখি হতে হয়নি।
বছর শেষে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন জভেরেভ। জার্মানির ইতিহাসে প্রথম টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থেকে বছর শেষ করার কৃতিত্ব অর্জন করবেন তিনি। এটি শুধু তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য নয়, জার্মান টেনিসের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।
আগামী ২৩ নভেম্বর ২০২৬ সালের অফিশিয়াল সমাপনী র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হবে। তখন জভেরেভের বয়স হবে ২৯ বছর ২১৭ দিন। এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক টেনিস তারকা আন্দ্রে আগাসিকে পেছনে ফেলবেন। ১৯৯৯ সালে বছর শেষে প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান অর্জনের সময় আগাসির বয়স ছিল ২৯ বছর ২১৪ দিন। ফলে জভেরেভ প্রথমবারের মতো বছর শেষে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড গড়বেন।
জভেরেভের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠিন সময় পেরিয়ে ফিরে আসার গল্পও। ২০২২ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালে গোড়ালিতে গুরুতর চোট পান তিনি। সেই চোটের কারণে প্রায় সাত মাস কোর্টের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। দীর্ঘ পুনর্বাসন ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আবারও প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরে আসেন জার্মান তারকা। এরপর ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পেয়ে বিশ্ব টেনিসের শীর্ষ পর্যায়ে জায়গা করে নেন।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে টানা সেরা চারের মধ্যে অবস্থান করছেন জভেরেভ। এই ধারাবাহিকতা তার সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ। চোটের কারণে ক্যারিয়ার থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। বরং প্রতিকূলতা কাটিয়ে আরও শক্তিশালীভাবে ফিরে এসে নিজের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে গেছেন।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের সংগ্রামের কথা স্মরণ করে জভেরেভ বলেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেক পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা দিতে হয়েছে, বিশেষ করে গোড়ালির চোট থেকে ফেরার পর। মৌসুমটা দারুণভাবে শেষ করার অপেক্ষায় আছি।’
সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল জভেরেভের ক্যারিয়ারে স্মরণীয় একটি বছর হয়ে উঠতে যাচ্ছে। গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং বছর শেষে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকার সাফল্য তাকে টেনিসের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে দেবে। তবে আনুষ্ঠানিক সমাপনী র্যাঙ্কিং প্রকাশের মধ্য দিয়েই তার এই অর্জনের চূড়ান্ত স্বীকৃতি মিলবে।
পড়ুন:পঞ্চম দিনে আবুধাবি টেস্ট : জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট
ইমি/


