চট্টগ্রাম পিডিবিতে কেনোয়ার-দেলোয়ার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জিম্মি গ্রাহকরা!

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মোহরা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, বাণিজ্যিক মিটার স্থাপনে চাপ সৃষ্টি এবং জরিমানার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। হাটহাজারীর শিকারপুর ও বুড়িশ্চর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খামারিদের অভিযোগ, ছোট পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাঁদের বাণিজ্যিক মিটার স্থাপনে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যথায় কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল ও লাখ লাখ টাকা জরিমানার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মোহরা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেনোয়ার হোসেন ও সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গ্রাহকদের ওপর চাপ সৃষ্টি, মিটারসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে অর্থ দাবি এবং মিটার ট্যাম্পারিংয়ের বিষয় নিষ্পত্তির নামে টাকা আদায়। এ ছাড়া তাঁদের সম্পদ ও ব্যাংকে স্থায়ী আমানত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।

হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ও বুড়িশ্চর ইউনিয়নের গ্রামীণ এলাকায় ছোট খামার ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যিক মিটার স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা।

নেয়ামত আলী সড়কের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন ও রফিক সওদাগরের অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বর মাসে মোহরা বিভাগের দুই মিটার পাঠক তাঁদের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বাণিজ্যিক মিটার স্থাপনের জন্য চাপ দেন। এ সময় মিটার পরিবর্তন না করলে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল এবং দুই লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয় বলে দাবি তাঁদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে হয়েছে। তবে এ অর্থ লেনদেনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শিকারপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম দীর্ঘ ৪৫ বছর প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে একটি ছোট খামার গড়ে তোলেন। তাঁর অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর পিডিবির দেলোয়ার নামের এক কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে বাণিজ্যিক মিটার স্থাপনের জন্য চাপ দেন এবং আড়াই লাখ টাকা জরিমানার হুমকি দেন।

পরে বিষয়টি চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদের হস্তক্ষেপে সমাধান হয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রাহকদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কেনোয়ার হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে সম্পদ গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত বা এফডিআর থাকার অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ছাড়া কেনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অতীত সরকারের সময় চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পদায়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন অভিযোগকারী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি, সম্পদের বিবরণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো যাচাই ছাড়া প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

নজুমিয়াহাট বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবের কারণে সাধারণ গ্রাহকেরা অনেক সময় নিজেদের সমস্যার কথা নির্ভয়ে জানাতে পারেন না। তাঁদের দাবি, মিটার স্থাপন, বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ এবং জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

ভুক্তভোগীদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা হলে গ্রাহক হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মিটার পাঠক ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কার্যক্রম তদারকি এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী কেনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্যও এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এখন প্রশ্ন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খামারিদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক মিটার স্থাপন কিংবা জরিমানার নামে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ কতটা সত্য? অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পড়ুন: চুয়েটের সংকট ছড়াচ্ছে ঢাকায়, শাহবাগে সমাবেশের ডাক

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন