টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বিয়ের আলাপ করতে এসে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মারধর করে টাকা নেয়ার ঘটনার মামলার দুই সাংবাদিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের জুজিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালতের বিচারক জান্নাতুল নাঈম মিতু তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরা হলেন, চ্যানেল এস এর ভূঞাপুর প্রতিনিধি হাদি চকদার ও কালের কন্ঠের ভূঞাপুরের ডিজিটাল প্রতিনিধি আরিফুজ্জান তপু। এছাড়া হাদি ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এবং তপু ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সদস্য।
তবে সাংবাদিক মহল এবং পরিবারের দাবি তাদের ফাঁসানো হয়েছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।
এর আগে ১০ অক্টোবর ভূঞাপুর থানায় ভুক্তভোগী মো. রাফিকুল ইসলামের ছেলে মাহিন (২২) ওই দুই সাংবাদিকের নামে মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর মাহিন তাঁর এক বন্ধুর বোনের বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে ভূঞাপুর উপজেলার হাবিবুর রহমানের বাড়িতে যান। এ সময় মেয়েকে পছন্দ হওয়া নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কথাকথাকাটি ও বাকবিতকন্ডা হয়। পরে ঘটনাটি মিমাংসা হলে রাত ১২টার দিকে কাজী ডেকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত হয়। এসময় মাহিনের বন্ধু নিহাদ মোবাইল ফোন দিয়া ছবি তুলে ও ভিডি করে। পরে হাদি ও তপু নিহাদের উপর চড়াও হয় এবং কেন ছবি ও ভিডিও করা হইল তার নিয়া কথা-কাটাকাটি শুরু করে। এরই জেরে তারা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভুক্তভোগীদের পর্ণগ্রাফির জড়িত থাকা এবং পুলিশকে ডেকে নিয়ে গ্রেফতারের হুমকি ধামকি দেয়।
পরবর্তীতে তারা ৬টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে ভুক্তভোগীদের মোটরসাইকেলযোগে ভূঞাপুর কিন্ডারগার্টেন স্কুল ভবনের ২য় তলার একটি কক্ষে নিয়া আটক করে। এসময় ওই দুই সাংবাদিক ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে তপু সারারাত আটকে রাখে এবং সবাইকে চরথাপ্পর ও কিলঘুষি মারে। টাকা না দিলে হত্যা করার হুমকি দেয়। এসময় প্রথমে মাহিনের কাছ থেকে তপু বিভিন্নভাবে দুই লাখ টাকা নেয়। পরবর্তীতে নিহাদকে মারধর করে তার নগদ একাউন্টে এক্সেস নিয়ে ৩১ হাজার টাকা নেয়। এছাড়াও শাকিলকেও জখম করে টাকা দাবি করে। পরে মোবাইল ফোন ফেরত দেয়ার কথা বলে ৭টি সাদা কাগজে আমাদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। এসময় শুধুমাত্র এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফেরত দিয়ে ৩টি আইফোন নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মোটরসাইকেলযোগে ভুক্তভোগীদের ঘাটাইল পৌরসভা এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। পরে এ ঘটনায় গত ১০ অক্টোবর মাহিন মামলা দায়ের করেন।
ওই সাংবাদিককের এডভোকটে মোশাররফ হোসেন বলেন, আত্মসর্মপনের পর আদালতের বিচারক তাদের কাগারাগে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে সাংবাদিক মহল এবং পরিবারের দাবি তাদের ফাঁসানো হয়েছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।
পড়ুন : সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আধুনিকায়নের আশ্বাস রেলমন্ত্রীর


