শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বছর ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই ধর্মীয় উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
এই উপলক্ষে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৯৯ কিঃমিঃ সীমান্ত এলাকায় পূজা উপলক্ষে সর্বমোট ৮৬টি পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাটালিয়ন সদরের ০২-০৩ কিঃমিঃ এর মধ্যে ২২টি, দিনাজপুর জেলার বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্ত এলাকায় ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ৪১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। চিহ্নিত ৮৬টির মধ্যে ৬৪টি পূজামণ্ডপই আন্তর্জাতিক সীমারেখার খুব নিকটে অবস্থিত।
এ প্রেক্ষাপটে পূজার সময়সীমা জুড়ে বিজিবি কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে না পারে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন যেন তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে পারেন।
বিজিবির টহল দল ইতোমধ্যেই দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পূজা মণ্ডপ সমূহের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিমা বিসর্জনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই টহল তৎপরতা জোরদার থাকবে।
শুধুমাত্র বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তৎপরতাই নয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সম্প্রীতিমূলক পরিবেশ বজায় রাখতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) কাজ করে যাচ্ছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক এবং বিজিবির টহলদল পূজামণ্ডপ এলাকায় উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় ও উপস্থিতির মাধ্যমে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্তে বা পূজামণ্ডপ এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা তৎপরতা পরিলক্ষিত হলে দ্রুত বিজিবিকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক জানান, বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক- এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে বাহিনীর প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবগুলো যাতে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, তা নিশ্চিত করা বিজিবির অন্যতম অগ্রাধিকার।
পড়ুন : সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি হুতিদের
সা/


