মন্ত্রীর পরিদর্শনের প্রেক্ষিতে কাজের মান বাড়ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়


​বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি, ত্রুটি দূরীকরণ এবং উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতি এসেছে। সম্প্রতি গত ১৩ তারিখে মাননীয় রেলমন্ত্রী কারখানায় সরজমিনে পরিদর্শনের সময় কাজের ফিনিশিং নিয়ে প্রদত্ত দিকনির্দেশনা মেনে নিয়ে কারখানা জুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

​সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, কারখানার স্থবিরতা দূর করতে দিনরাত কাজ করছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সম্প্রতি কারখানায় বেশ কিছু দীর্ঘদিনের স্থবির কাজ পুনরায় চালু এবং অভাবনীয় উদ্ভাবন সম্পন্ন হয়েছে।

​দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান ও অভূতপূর্ব সাফল্য
​৩৫ বছর পর বাফার হুক উৎপাদন: দীর্ঘ ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর কারখানার প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের নিজস্ব মেধা ও শ্রমে কোচের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাফার হুক’ পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে, যা পরিদর্শনকালে মন্ত্রী মহোদয়েরও প্রশংসা কুড়ায়।

​অলস লাগেজ ভ্যানকে লোকাল কোচে রূপান্তর: ২০২০ সালে চীন থেকে আনা দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকা শতধিক লাগেজ ভ্যান থেকে রাজস্ব আসছিল না। যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে কারখানায় নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতায় (Prototype) এসব লাগেজ ভ্যানকে ‘কমিউটার ট্রেনের’ লোকাল কোচে রূপান্তর করা হয়েছে।

​যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে লাগেজ র্যাক সম্প্রসারণ: চীন থেকে সংগৃহীত এসি চেয়ার কোচে ৮০ জন যাত্রীর বিপরীতে মাত্র ৩০ জনের লাগেজ রাখার সুব্যবস্থা ছিল। কারখানায় নিজস্ব প্রযুক্তিতে লাগেজ র্যাক সম্প্রসারণ করে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

​২০০৬ সালের কোচের জানালা সংস্কার: ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা ৫০টি ব্রডগেজ কোচের জানালা পুরো না খোলায় যাত্রীদের কষ্ট হতো। অত্যন্ত কম খরচে পুরো জানালা খোলার (মডিফিকেশন) বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

​পরিদর্শন ও কাজের ফিনিশিং প্রসঙ্গে প্রকৃত তথ্য
​গত ১৩ তারিখ মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের পরিদর্শনের সময় যে কোচের জানালার ফিনিশিং নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেটি মূলত ক্যারেজ শপে সংস্কারাধীন একটি অসম্পূর্ণ ও চলমান কাজ ছিল। কি ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে তা কেবল প্রাথমিক প্রদর্শনী হিসেবে দেখানোর জন্য রাখা হয়েছিল। কাজটি পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় প্রাথমিক কিছু ত্রুটি দৃশ্যমান ছিল।

​সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, মাননীয় রেলমন্ত্রী মহোদয়ের পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনাকে গঠনমূলকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশিত বিষয়গুলো সংশোধন করে কারখানার সার্বিক কাজের নিখুঁত ফিনিশিং ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে শতভাগ আন্তরিকতার সাথে কাজ চলছে।

​কারখানার কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা লোহা গলিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেখানে মৃতপ্রায় ট্রেনগুলোকে সচল রাখছেন এবং কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় করছেন, সেখানে মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা মেনে সামনের দিনে রেলের যাত্রীসেবায় আরও বড় অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা।

পড়ুন:দুর্গোৎসবে বিএনপির নেতা কর্মীরা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করবেন

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন