খুলনায় জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সি

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় ক্রয়কৃত ও ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, জীবননাশের হুমকি এবং হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. বাহাদুর মুন্সি। এ ঘটনায় নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ ইমাম হাসান বাচ্চুর ছেলে সৈয়দ ইস্তিয়াক হাসান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বাহাদুর মুন্সি। এ সময় তিনি নিজের ক্রয়কৃত জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কথিত হুমকি-ধামকির ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাহাদুর মুন্সি জানান, তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামের মো. মোফাজ্জেল মুন্সির ছেলে। উপজেলার ১ নম্বর জলমা ইউনিয়নের রাঙ্গেমারী মৌজায় ২১৬৩ দাগের আরএস ৪১১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত আট শতক জমি খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের কাছ থেকে ক্রয় করেন।

তাঁর দাবি, জমিটির পূর্ববর্তী মালিক আবুল হোসেন আরএস ৪১১ নম্বর খতিয়ান থেকে পৃথক আরএস ৬০৮৯ নম্বর খতিয়ান তৈরি করে জমিটি ভোগদখলে ছিলেন। পরবর্তী বিডিএস জরিপে বুজরত ১০৮২৮ নম্বর খতিয়ানের বিডিএস ১৯০৭৩ নম্বর দাগে দখল অনুযায়ী জরিপ সম্পন্ন হয়। পরে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ০৫/২৫ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে আবুল হোসেন তাঁর কাছে জমিটি বিক্রি করেন।

বাহাদুর মুন্সি আরও জানান, জমিটি কেনার পর তিনি পৃথক খতিয়ান আরএস ২৫/৭৭৬৬ নম্বরে নামজারি করেন এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন। এরপরও তাঁকে জমি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বটিয়াঘাটা থানায় অভিযোগ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিরোধের জেরে নাসিমা হাসান গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় এমপি-২৩৭/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বাহাদুর মুন্সি তিন নম্বর আসামি ছিলেন।

আদালতের নির্দেশে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ জমিটির দখলসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করে। বাহাদুর মুন্সির দাবি, তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মো. জাকির হোসেন ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দাখিল করা প্রতিবেদনে তাঁকে জমিটির ভোগদখলে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনের স্মারক নম্বর ৩৪৫০।

সংবাদ সম্মেলনে বাহাদুর মুন্সি অভিযোগ করেন, সৈয়দ ইস্তিয়াক হাসান তাঁকে বিভিন্ন সময়ে জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এ কাজে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সহযোগিতা করছেন বলেও তাঁর সন্দেহ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, একই জমি নিয়ে নাসিমা হাসান পরবর্তী সময়ে আদালতে এমপি-৫০২/২০২৬ নম্বরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় আরেকটি মামলা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাহাদুর মুন্সি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলায় যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম, ১নং জলমা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বাদল হাওলাদার, সুরখালী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, ৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ইউনুছ কাজী,জলমা ইউনিয়ন ছাত্র দলনেতা শামিম,ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোঃ আলাউদ্দিন প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মন্ত্রীর পরিদর্শনের প্রেক্ষিতে কাজের মান বাড়ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন