আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে আনসার বাহিনীর প্রায় সাড়ে ১২ হাজার সদস্য এবং পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবীদের পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কড়লডেঙ্গা সন্ন্যাসী পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত প্রাচীন তীর্থস্থান মেধস মুনির আশ্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর এটি প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে আনন্দমুখর ও সর্বজনীন করার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চিত্র বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চায় সরকার। এবার সারা দেশে দেড় হাজারের বেশি নতুন সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ যুক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলাতেও প্রায় ৪০০টি নতুন মণ্ডপ বেড়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি সহায়তার পরিমাণ ও আওতাও বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জেএমসেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম বলেন, শুক্রবার থেকে পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর হবে।মোবাইল পেট্রোলিং, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি,ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম চলবে।গুজব, অপপ্রচার ও নাশকতার চেষ্টা ঠেকাতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবীদের সক্রিয় রাখা এবং সূর্যাস্তের আগে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হিন্দু পুরাণ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মেধস মুনির আশ্রমকে পৃথিবীর প্রথম দুর্গাপূজার স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, ইউএনও মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, ওসি মো. মোজাফফর হোসেন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ দীপানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম মেধস মুনির আশ্রম পরিদর্শন শেষে শ্রীপুর খরনদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা বীণাপানি পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন।
পড়ুন:সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৭০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
ইমি/


