চলনবিলের প্রতিদিন ৩ টন শামুক নিধন, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য

সিরাজগঞ্জের চলনবিলে বর্ষার পানি কমতে শুরু করতেই বেড়েছে শামুক-ঝিনুক আহরণের ব্যস্ততা। জীবিকার তাগিদে ছোট-বড় শতাধিক নৌকা নিয়ে বিলের বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করছেন স্থানীয় জেলে ও শ্রমজীবী মানুষ। তাঁদের সংগ্রহ করা শামুক বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার মাছ ও হাঁসের খামারে। এ ব্যবসাকে ঘিরে বর্ষার কয়েক মাসে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার বাণিজ্য। এতে দরিদ্র মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি হলেও নির্বিচারে শামুক-ঝিনুক আহরণে হুমকির মুখে পড়ছে চলনবিলের জলজ জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলনবিল থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন টন শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বর্ষার তিন থেকে চার মাসে এ বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা। তবে বিপুল পরিমাণ শামুক আহরণের ফলে বিলের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর কতটা চাপ পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে কৃষিকাজ ও অন্যান্য কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক দরিদ্র কৃষক ও জেলে পরিবারের কাছে শামুক সংগ্রহ হয়ে উঠেছে জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন।

চলনবিলের শামুক সংগ্রহকারীদের কাছে এটি শুধু পেশা নয়, বরং মৌসুমি বেকারত্বের মধ্যে টিকে থাকার লড়াই। বর্ষায় মাঠে কাজ কমে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তায় নৌকা নিয়ে বিলে নামেন তাঁরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন জলাশয়ে ঘুরে শামুক সংগ্রহ করেন। দিন শেষে সংগৃহীত শামুক বিক্রির টাকা দিয়েই চলে তাঁদের পরিবারের খরচ।

শামুক সংগ্রহকারী সুকুমার দাস বলেন, বর্ষার মৌসুমে কৃষিকাজ বা অন্য কোনো কাজ তেমন থাকে না। তখন সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। পেটের দায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তা নিয়ে শামুক সংগ্রহের কাজে নেমেছি। প্রতিদিন শামুক সংগ্রহ করে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এই টাকা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালাতে হয়।

মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের কুন্দইল গ্রামের জেলে ও শামুক সংগ্রহকারী পরান মন্ডল, বিজয় ও রফিকুল ইসলাম জানান, ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন জলাশয়ে ঘুরে তাঁরা শামুক সংগ্রহ করেন। মাঠে কাজের সুযোগ কম থাকায় বাধ্য হয়েই এ পেশায় যুক্ত হয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের ভাষ্য, দিন শেষে শামুক বিক্রির টাকা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেও সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় জীবিকার তাগিদে এ কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় আরেক শামুক সংগ্রহকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্ষার সময়ে আমাদের তেমন কাজ থাকে না। চাষাবাদও বন্ধ থাকে। তখন সংসার চালাতে কষ্ট হয়। শামুক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় নৌকা নিয়ে বিলে শামুক সংগ্রহ করি। সারাদিন পরিশ্রম করে যা পাই, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলে। তিনি জানান, প্রতিদিন শামুক সংগ্রহ করে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। বর্ষা মৌসুমে অন্য কাজের সুযোগ কম থাকায় এই আয় তাঁর পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বয়সের ভারে আগের মতো পরিশ্রম করতে না পারার কথা জানিয়ে আরেক সংগ্রহকারী ইয়াসিন আলী বলেন, বয়স হয়েছে, আগের মতো আর পরিশ্রম করতে পারি না। সারাদিন বিলে ঘুরেও বেশি শামুক তুলতে পারি না। যতটুকু সংগ্রহ করতে পারি, বিক্রি করে কোনোরকমে সংসার চালাই।

সংগ্রহকারীদের এমন অভিজ্ঞতা বলছে, চলনবিলের শামুক আহরণের সঙ্গে স্থানীয় দরিদ্র মানুষের জীবিকা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ফলে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি।

স্থানীয়রা জানায়, তাড়াশ উপজেলার চলনবিল-সংলগ্ন হামকুড়িয়া, ঘরগ্রাম, কুন্দইল, কামাড়শোন, মাকড়শোন, নাদোসৈয়দপুর ও মাগুড়া বিনোদসহ প্রায় ২২ থেকে ২৫টি এলাকায় শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। ছোট-বড় শতাধিক নৌকায় প্রতিদিন এ কার্যক্রম চলে। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শামুক সংগ্রহের মৌসুম থাকে। তবে এবার বর্ষার পানি দেরিতে নামায় সংগ্রহের সময় আরও প্রায় এক মাস বাড়তে পারে।

শামুক সংগ্রহকারীরা সাধারণত ছোট ডিঙি নৌকা ব্যবহার করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাঁদের নৌকা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। একজন সংগ্রহকারী দিনে তিন থেকে চার বস্তা শামুক সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতি বস্তা শামুক বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। সংগ্রহের পরিমাণ ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে তাঁদের দৈনিক আয়। চলনবিল থেকে সংগৃহীত শামুক স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, বরিশাল, বাগেরহাট, যশোর ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। এসব এলাকার মাছ ও হাঁসের খামারে শামুক খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

চলনবিলের শামুক বাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাও যুক্ত রয়েছেন। সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে শামুক কিনে তাঁরা তা পাইকারি বাজারে সরবরাহ করেন।

নাদোসৈয়দপুর এলাকার শামুক ব্যবসায়ী আলামিন শেখ, কামাল হোসেন, ও লিটন মিয়া বলেন, তাড়াশ, নওগাঁ ও পাবনায় এ বছর কয়েকটি ইউনিয়নের সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে শামুক কিনছে। তাঁদের হিসাবে, কয়েকটি গ্রুপ এক সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মণ শামুক কেনা হচ্ছে। প্রতি কেজি শামুকের ক্রয়মূল্য প্রায় ৭ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, সংগ্রহ করা শামুক বিভিন্ন আড়তে পাঠানো হয়। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাঁদের এ বাণিজ্যের সঙ্গে সংগ্রহকারী, পরিবহন শ্রমিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরাও যুক্ত রয়েছেন।

স্থানীয় শামুক ব্যবসায়ী আব্দুল মমিন বলেন, ছোট-বড় মিলিয়ে ২২ থেকে ২৫ জন ব্যবসায়ী এ কাজে জড়িত। আমরা স্থানীয় সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে শামুক কিনে বিভিন্ন জেলার বড় বড় আড়তে পাঠাই। বর্ষার তিন থেকে চার মাস এ বেচাকেনা চলে। চলনবিলে প্রতিবছর প্রায় কোটি টাকার শামুক বেচাকেনা হয় বলে আমাদের ধারণা। তিনি আরও জানান, চলনবিল থেকে সংগৃহীত শামুক তাড়াশের হামকুড়িয়া, ঘরগ্রাম, কামাড়শোন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে বস্তায় ট্রাক যোগে বিভিন্ন জেলায় পাঠায় ব্যবসায়ীরা। এই শামুক চিংড়ি ও পাঙ্গাশ মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, শামুক বাণিজ্য স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে প্রতিদিন কী পরিমাণ শামুক আহরণ করা হচ্ছে, তার নির্ভরযোগ্য হিসাব এবং প্রাকৃতিকভাবে শামুকের বংশবিস্তার ও পুনরুৎপাদনের অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় দীর্ঘমেয়াদে এ ব্যবসার পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ করা কঠিন।

শামুক ও ঝিনুক জলজ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজাতিভেদে এসব প্রাণী পানির ক্ষুদ্র জীব ও জৈব পদার্থ খেয়ে জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর খাদ্য হিসেবেও শামুক গুরুত্বপূর্ণ। কিছু প্রজাতির শামুক পানির কণাবস্তু ছেঁকে খাওয়ার মাধ্যমে পানির স্বচ্ছতা ও পুষ্টিচক্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়, বিশেষ করে খাল-বিল ও হাওর-বাঁওড়ে শামুক-ঝিনুক বংশবিস্তার করে। জলাশয়ে থাকা বিভিন্ন ক্ষুদ্র জীব ও জৈব পদার্থ খাওয়ার মাধ্যমে প্রজাতিভেদে এগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি স্থানীয় মিঠাপানির মাছের খাদ্যের চাহিদা পূরণেও শামুক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত শামুক নিধন অব্যাহত থাকলে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শামুক আহরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বিচারে সংগ্রহ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শামুকের সংখ্যা কমে গেলে তা জলজ খাদ্যশৃঙ্খল, পুষ্টিচক্র ও সংশ্লিষ্ট প্রাণীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চলনবিলে শামুকের প্রকৃত মজুত, প্রজাতিভিত্তিক সংখ্যা ও আহরণের প্রভাব নির্ধারণে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক জরিপ প্রয়োজন।

শামুক-ঝিনুক সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও চলনবিলে আহরণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার জানান, সরকারিভাবে শামুক-ঝিনুক সংরক্ষণে উদ্যোগ বা প্রকল্প থাকলেও তা এ অঞ্চলে কার্যকরভাবে প্রযোজ্য নয় বলে তাঁর ধারণা। তাঁর মতে, শামুক জলাশয়ের প্রাকৃতিক পরিশোধন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তাই এ প্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের আওতায় শামুক সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে শামুকের প্রজাতি, প্রযোজ্য আইনের বিধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার যাচাই করে আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, শুধু আইন থাকার বিষয়টি যথেষ্ট নয়, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি, আহরণের পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রজনন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি শামুকের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং স্থানীয় সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়ীদের পরিবেশগত বিষয়ে সচেতন করা প্রয়োজন।

শামুক-ঝিনুক আহরণ ও এর পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, শামুক-ঝিনুক সংগ্রহের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে শামুক সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের এ আশ্বাসের পর এখন দেখার বিষয়, চলনবিলের শামুক আহরণ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শামুক-ঝিনুক নিধনের বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, শামুক-ঝিনুক জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্বিচারে শামুক-ঝিনুক নিধনের ফলে জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শামুক-ঝিনুক নিধন বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শামুক-ঝিনুকের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করা জরুরি।

চলনবিলে শামুক-ঝিনুক আহরণ একদিকে দরিদ্র মানুষের মৌসুমি আয়ের পথ, অন্যদিকে জলজ পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ। তাই শুধু শামুক সংগ্রহ বন্ধের ঘোষণা দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে আহরণের সীমা নির্ধারণ, নিয়মিত নজরদারি, প্রযোজ্য আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং সংগ্রহকারীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

একদিকে শামুকের অতিরিক্ত আহরণ চলতে থাকলে জলজ খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে হঠাৎ করে এ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেলে বিপাকে পড়বেন মৌসুমি কাজের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র মানুষ। তাই চলনবিলের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি শামুক সংগ্রহকারীদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত সচেতনতা ও বিকল্প আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে জীবিকা রক্ষা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতে পারে। অন্যথায় স্বল্পমেয়াদি আয়ের এ বাণিজ্য ভবিষ্যতে চলনবিলের পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা—উভয়ের জন্যই সংকট তৈরি করতে পারে।

পড়ুন : সিসিটিভি ও বডিওন ক্যামেরার বিশেষ নজরদারিতে ২৫৭টি পূজামণ্ডপ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন