ত্রিদেশীয় সিরিজে জয়ের হার কম বাংলাদেশের, কারণ জানালেন লিটন

ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্যের রেকর্ড খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। এখন পর্যন্ত ছয়টি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে মাত্র একটিতে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজিত সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই তিনজাতীয় প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র শিরোপা। এ ছাড়া ২০১৮ সালের নিদহাস ট্রফির ফাইনালে উঠেও ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হতে হয়েছিল টাইগারদের। তবে অতীতের পরিসংখ্যান নিয়ে না ভেবে আসন্ন সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলতে চান অধিনায়ক লিটন দাস।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে আবুধাবিতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে শুরু হচ্ছে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তুলনামূলক দুর্বল রেকর্ডের কারণ নিয়ে কথা বলেছেন লিটন। তাঁর মতে, এ ধরনের সিরিজে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কম হওয়ায় অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি ফাইনালে ওঠার চাপও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্য কম হওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ দেখছেন না লিটন। বরং নিয়মিত এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়াকেই বড় বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

লিটন বলেন, “আমার কাছে মনে হয় কোনো কারণ নাই, আমরা খুব কম ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলি। আমি অনেক দিন ধরে খেললেও ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা খুব কম। আমরা বড় বড় টুর্নামেন্ট এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ এসবে খেলি, কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজ সেভাবে খেলা হয় না। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাড়তি একটা চাপ থাকে।”

অধিনায়কের মতে, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের থাকলেও তিন দলের প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এখানে প্রতিটি ম্যাচের ফল পরবর্তী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলে। ফলে দলগুলোকে শুরু থেকেই পয়েন্ট ও রান রেটের হিসাব মাথায় রেখে খেলতে হয়।ক

ত্রিদেশীয় সিরিজে তিন দলেরই লক্ষ্য থাকে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। এ কারণে একটি ম্যাচে হারলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোর ওপর চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে রান রেটের হিসাব সামনে এলে কৌশল নির্ধারণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে লিটন বলেন, “৩ দলের উপরই (চাপ) থাকে– ফাইনালে উঠতে হবে। আমার মনে হয় সেখানে বাড়তি চাপ আসে। (দ্বিপাক্ষিক) সিরিজে আসলে সেভাবে চাপ থাকে না, এক ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকে। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে হেরে গেলে চাপ থাকে, রান রেটের ব্যাপার থাকে।”

তবে অতীতের রেকর্ড নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত নন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সাম্প্রতিক সময়ে দলের পারফরম্যান্স এবং খেলোয়াড়দের পরিণতিবোধের উন্নতিতে আশাবাদী তিনি।

লিটনের ভাষায়, “আমাদের ছেলেরা এখন ভালো ক্রিকেট খেলছে। গত কিছু সিরিজে ভালো খেলেছি। ম্যাচুরিটি লেভেলও ভালো আছে। আশা করছি আমরা এখানে ভালো ক্রিকেট খেলব।”

বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে নিজের অনুভূতির কথাও জানিয়েছেন লিটন। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তিনি শুরু থেকেই উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন। নতুন সিরিজে দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনাই থাকবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

তবে মাঠের লড়াইয়ে ভালো ফল পেতে হলে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন এই অধিনায়ক। সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাটিং প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে বড় সংগ্রহ গড়া এবং লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে ব্যাটারদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

হাইস্কোরিং ম্যাচে বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে লিটন স্পষ্ট করে বলেন, রান করার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ব্যাটারদেরই নিতে হবে। ইনিংসের শুরুতে কিংবা শেষ দিকে ব্যাটিং—পরিস্থিতি অনুযায়ী সবাইকে নিজেদের দায়িত্ব বুঝে খেলতে হবে।

তিনি বলেন, “শুরুতে বা পরে ব্যাট করেন রান তো ব্যাটারদেরকেই করতে হবে। তাদেরকে পুরো দায়িত্ব নিয়েই ব্যাটিং করতে হবে।”

আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩০০ বা তার বেশি রান তাড়া করা কিংবা বড় সংগ্রহ গড়া এখন অনেক দলের নিয়মিত লক্ষ্য। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিংয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হয়। শুরুতে উইকেট ধরে রাখা, মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি বাড়ানো এবং শেষ দিকে কার্যকর ব্যাটিং—সব ক্ষেত্রেই সমন্বয় প্রয়োজন।

লিটনের মতে, প্রথমে ব্যাটিং করলে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য সামনে থাকে না। কিন্তু পরে ব্যাটিংয়ের সময় ৩০০ বা তার বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে ব্যাটারদের তুলনামূলক আগ্রাসী হতে হয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগে ব্যাট করলে তো কোনো টার্গেট থাকে না। পরে ব্যাট করতে গেলে ৩০০ বা ৩০০+ রান টার্গেট থাকে, তখন একটু আগ্রাসী ব্যাট করতে হয়।”

বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনায় টপ অর্ডারের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারের অবদানকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন লিটন। সাধারণত ছয়জন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ফলে নিচের দিকে থাকা ব্যাটাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে না পারলে বড় সংগ্রহ গড়া কিংবা কঠিন লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে অধিনায়ক বলেন, “আমরা বেশিরভাগ ৬ ব্যাটার নিয়েই খেলি, লোয়ার অর্ডার সেভাবে দলে অবদান রাখতে না পারলে কাজটা একটু কঠিন হয়ে যায়। তবে চেষ্টা করছি সেসব শুধরে নেওয়ার।”

ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ থাকবে বাংলাদেশের সামনে। আফগানিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলের উপস্থিতিতে ফাইনালে ওঠার লড়াইও সহজ হবে না।

তবে লিটনের বিশ্বাস, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে চাপ সামলানো, ব্যাটারদের দায়িত্বশীলতা এবং দলীয় সমন্বয়—এই তিন বিষয়ই এবারের সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

পড়ুন:অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজ : ফাইনালে হারল বাংলাদেশ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন