সাভারে ইয়ামিন হত্যা মামলা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৯ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সাভারে আসহাবুল ইয়ামিনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ মোট ১৯ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

মামলার প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল শুনানির জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেন।

এই মামলায় ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া এবং মিজানুর রহমানসহ মোট ছয়জন আসামি বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

অন্যদিকে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম ছাড়া পলাতক অপর ১২ জন আসামি হলেন— ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ওসি শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ, সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান এবং শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।

আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২৬ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর পলাতক থাকা ১৩ জন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য গত ৭ সেপ্টেম্বর ‘স্টেট ডিফেন্স’ বা রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগে উঠে এসেছে সেই দিনের বর্বরোচিত ঘটনার বিবরণ। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে আসহাবুল ইয়ামিনকে ধরে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের (এপিসি) কাছে নিয়ে গিয়ে বুকের বাঁ পাশে সরাসরি গুলি করা হয়। এতে তাঁর শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।

পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মুমূর্ষু অবস্থায় ইয়ামিনকে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে রেখেই গাড়িটি এপাশ-ওপাশ ঘুরাতে থাকে পুলিশ সদস্যরা। একপর্যায়ে তাকে রাস্তার ওপর ফেলে দেওয়া হয় এবং এপিসির ভেতর থেকে এক পুলিশ সদস্য বের হয়ে ইয়ামিনের পায়ে আবারও গুলি করার নির্দেশ দেয়।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে পায়ে নতুন করে গুলি না চালিয়ে তাকে টেনে সড়ক বিভাজকের (ডিভাইডার) পাশে ফেলে দেয়। মারাত্মক আহত ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকলেও তখনও ইয়ামিন শ্বাস নিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে উপস্থিত আন্দোলনরত জনতা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পড়ুন : কলকাতায় দুর্গাপূজা মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ২০ জনের মৃত্যু

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন