নিয়োগ বানিজ্য এবং উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে। বহাল তবিয়তে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চোখে কালো কাপড়। বিবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রমান পাওয়া গেছে রায়পুর (দক্ষিণ) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম বিরুদ্ধে। নিয়োগ বানিজ্য, স্বাক্ষর জালিয়াতি, উপবৃত্তির টাকা আতœসাৎ, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিপক্ষে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল খায়ের খন্দকার পত্রিকর প্রতিনিধিকে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক হলো রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার রায়পুর (দক্ষিণ) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম। ওই শিক্ষখ স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নিয়োগ-বাণিজ্য করেছেন। ইতোপূর্বে নিয়োগ-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হট্টগোল হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিজের স্ত্রী এবং আপন ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েও বিদ্যালয়ে অভিযোগ রয়েছে। দক্ষিণ রায়পুর গ্রামের রফিক ইসলামের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৫বছর যাবত বাংলা শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। কিন্ত তাকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এবিষয়ে রফিক ইসলাম রাজশাহী কোর্টে ফৌজদারি মামলা করেন। ওই মামলায় প্রধান শিক্ষক ৯ দিন কারাবাস করে। বর্তমান ওই মামলায় জামিনে আছেন।
অপরদিকে ময়না নামে এক নারী অভিযোগ করে বলেন, ওই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে আয়ার কাজ করেছেন। তার কাছে থেকে অগ্রীম ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে প্রধান শিক্ষক। তবে চাকরি স্থায়ী করার জন্য অরো ৩ লক্ষ টাকা দাবি করেন। কিন্ত তিনি টাকা সংগ্রহ করতে পারেননি। যার কারনে প্রধান শিক্ষক অর্থের বিনিময়ে লতা নামে অন্য এক নারীকে আয়া হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন। একই ভাবে আদুল্লাহর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নাইট গার্ডের চাকুরী দেন ওই শিক্ষক। কিন্ত ২০১৮ সালে তার নিয়োগ স্থায়ী না করে অন্যজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা শিক্ষক হিসেবে নিপেন নামে এক শিক্ষককে ৩ লাখ টাকার চুক্তিতে রাখা হয়েছে। নিয়োগ পেলে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করে স্কুলে প্রবেশ করতে হবে। এ ছাড়া নিপেনের কাছ থেকে অগ্রিম আরও ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার কথা শিখার করেছেন নিপেন। তবে নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলামের সাথে কথা বলতে বলেন তিনি।
প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি মো. আবুল খায়ের খন্দকারের কাছ থেকে ফাঁকা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নিজের স্ত্রী শাহানারা খাতুনকে সহকারী সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক এবং আপন মোজো ভাইয়ের স্ত্রী হাফিজা খাতুনকে ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। স্বক্ষর জালিয়াতি করে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছে সহকারী বাংলা শিক্ষক হিসেবে মোঃ মামুনুর রশিদ এবং সহকারী ইংরেজী শিক্ষক হিসেবে মোঃ আকতার হোসেনকে। মামুনুর রশিদকে ২০২৬ সালে নিয়োগ দেওয়া হলেও কাগজপত্রে নিয়োগের তারিখ দেখানো হয়েছে ৫ আগস্ট ২০০১। অন্যদিকে, আকতার হোসেনের নিয়োগ পত্রে ১৫ আগস্ট ২০০৪ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় নিয়োগের তারিখই সঠিক নয় এবং নিয়োগপত্রের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই অনিয়েমের কারনে কোর্টে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ঢাকা কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বলে জানান, সাবেক সভাপতি।
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন মোঃ মিলন। তিনি ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তৎকালীন সভাপতির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রধান শিক্ষক একাধিক নিয়োগ দিয়েছেন। তবে এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে নথিপত্রে প্রকৃত সময়ের পরিবর্তে (ব্যাকডেট) পুরোন তারিখ দেখানো হয়েছে । চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ভূয়া ছাত্রীদের নামে ২০০৪ সালে দুই দফায় ৮০ জনের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বর্তমান বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা এবং উপবৃত্তি বিতরণ নিয়ে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে।
প্রধান শিক্ষক মুঠো ফোনে বলেন, সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগের অভিযোগের বিষয়টি সত্য নয়। শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করা কখনো সম্ভব না। সর্বপরি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি সম্পূর্ন মিথ্য। তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অভিযোগ করছে।
চারঘাট উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, সম্প্রতী তার বিরুদ্ধে রাজশাহী বিজ্ঞ আদালতের মামলা নোটিশসহ একটি অভিযোগ শিক্ষা অফিসে এসেছে। অভিযোগের সূত্রমতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন:কালকিনিতে যুবলীগের সাবেক নেতাকে আটক, মাদকসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ
ইমি/


