টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা। ওয়াসার পানির পাম্প নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্না, গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর সকাল থেকে নবীগঞ্জ এলাকার ওয়াসার পানির পাম্পটি অকেজো হয়ে পড়ে। এরপর ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও পাম্পটি সচল হয়নি। এতে পুরো এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও ব্যবহারের পানির তীব্র সংকট।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি জানিয়ে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও ‘কাজ চলছে, দ্রুত পানি আসবে’—এমন আশ্বাসই দেওয়া হচ্ছে। তবে পাম্প মেরামত বা বিকল্পভাবে পানি সরবরাহে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পানির গাড়ি (ওয়াটার ট্যাংকার) পাঠানোর অনুরোধ জানানো হলেও সেটিও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ২৪ নম্বর ওয়ার্ড সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে শহরে শারদীয় দুর্গাপূজা চলায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ত থাকায় আপাতত পানির গাড়ি পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা না করে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হচ্ছে। নিয়মিত কর ও ট্যাক্স নেওয়া হলেও এমন জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে বলেও জানান তারা।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, সংকটের বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করতে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেকেই ফোন রিসিভ করছেন না।
তবে সার্বিক পরিস্থিতি ও পাম্প মেরামতের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) আবদুল্লাহ আল জোবায়ের বলেন, ঠিক কি কারনে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার কোন বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারনেই এই সমস্যা। আমিরা এটা নিয়ে কাজ করছি।আজ রাতেই নবীগঞ্জ ওয়াসার নষ্ট পাম্পটির মেরামতকাজ সম্পন্ন করা হবে। আশা করা যাচ্ছে, আজ রাতের মধ্যেই এলাকাবাসী স্বাভাবিক পানি সরবরাহ ফিরে পাবেন।”
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত পাম্প মেরামত করে স্বাভাবিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাম্প সচল না হওয়া পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ওয়াটার ট্যাংকারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
পড়ুন : বড়লেখায় রাস্তা সংকুচিত করার প্রতিবাদে হামলার চেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ


