শরতের স্নিগ্ধ সকাল, ঢাকের মৃদু শব্দ আর ধূপের সুবাসে মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ। ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবহে দেবী দুর্গার প্রতিরূপ হিসেবে পূজিত হয়েছে ছয় বছরের কন্যা লগ্নজীতা চৌধুরী। মহাষ্টমীর পবিত্র তিথিতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় কুমারী পূজাকে ঘিরে সৃষ্টি হয় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রাধামদনমোহন ও তারা মা মন্দিরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। মন্দিরের প্রধান পূজারি শ্রী বাবলা চক্রবর্তীর মন্ত্রোচ্চারণে কুমারী লগ্নজীতা চৌধুরীকে দেবী দুর্গার প্রতিরূপ হিসেবে পূজা করা হয়। ধূপ-দীপ, পুষ্পমাল্য ও নানা পূজার্চনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।
কুমারী লগ্নজীতা চৌধুরী বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল গ্রামের বাসিন্দা সমাজসেবক অরজিত চৌধুরী ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শাপলা পাল দম্পতির কন্যা। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম নগরীর লাভলেইন এলাকায় বসবাস করছেন।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী পূজায় কুমারীর মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃশক্তি, পবিত্রতা ও নারীশক্তির প্রতীকী রূপের আরাধনা করা হয়। এ পূজার মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও সম্মানের বার্তাও তুলে ধরা হয়।
এ সময় লগ্নজিতার মা শাপলা পাল বলেন, “কুমারী পূজার মতো একটি ধর্মীয় আয়োজনে আমার মেয়ের অংশগ্রহণ আমাদের পরিবারের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। আমরা চাই, প্রত্যেক নারী যেন সমাজে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা পান। ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে উঠুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
পূজাকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়ে ভক্তরা পরিবার, সমাজ ও দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করেন।
মন্দির পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ পূজা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেবীশক্তির আরাধনার পাশাপাশি নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে।
পড়ুন : জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সা/


