দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা, সময়সূচি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশের পর ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বিভিন্ন বিভাগের লিখিত পরীক্ষা।এরপর আবার বিজ্ঞান বিভাগের প্রাকটিকাল পরীক্ষা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলায় একাডেমিক কার্যক্রমে ধীরগতি, পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়া এবং পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকাকালে পরীক্ষাব্যবস্থায় যে দীর্ঘসূত্রতা ছিল, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরও তার প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আতিক বলেন, ৩ নভেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের লিখিত পরীক্ষা চলবে দুই মাস সাত দিন। এর সঙ্গে ব্যবহারিক পরীক্ষা যুক্ত হলে পুরো প্রক্রিয়ায় পাঁচ থেকে ছয় মাস লেগে যেতে পারে। পরীক্ষার মধ্যে ১৫ থেকে ৩০ দিনের বিরতি পড়ায় পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। এতে সেশনজট, মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রুটিন পুনর্বিবেচনা করে স্বল্প সময়ে পরীক্ষা শেষ করার দাবি জানান তিনি।

একই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের ফাহাদ বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার্থীরা উন্নত ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থার আশা করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা, পরিচয়পত্র নিয়ে জটিলতা ও ফলাফল প্রকাশের অনিশ্চয়তা তাঁদের হতাশ করছে। এসব সমস্যা উচ্চশিক্ষা, চাকরির প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়ও প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তারেক হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধা উপেক্ষা করা হতাশাজনক। নিজস্ব ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এ বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চললে ফলাফল প্রকাশ ও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শুরুতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তাই পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন করা এবং সামগ্রিক পরীক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার দাবি তাঁদের।

এ বিষয়ে ডিসিইউর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শহিদুল্লাহ বলেন, ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৭ দিনের ছুটি থাকায় কলেজগুলো বন্ধ থাকে। এ কারণে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বেশি সময় লাগছে। বিজ্ঞান বিভাগের যেসব বিষয়ের পরীক্ষা আগে শেষ হবে, সেগুলোর ব্যবহারিক পরীক্ষা আগেই শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে পরীক্ষা হলে ছুটি তুলনামূলক কম থাকায় কম সময়ে পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হবে। দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বিষয়টিও তাঁদের বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।

চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষাও শুরু করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

পড়ুন : সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি চাইল ঢাকা

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন