বন্দরে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ২ সদস্য গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্য মো. সাইফুল (৩৫) ও তার সহযোগী মো. জনি ওরফে রনি (৩৭)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে বন্দর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সাইফুলের বিরুদ্ধে হত্যা, লাশ গুম, চুরি ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে জনি বন্দরের একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায়ও জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বন্দর থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, গত ২১ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে লক্ষণখোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মনারবাড়ী এলাকায় নবীগঞ্জ থেকে মদনপুরগামী সড়কের পাশে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সাইফুল ও রনিকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, সাইফুলের কাছ থেকে একটি রামদা ও একটি সুইচ গিয়ার এবং রনির কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ফেলে যাওয়া একটি ছোরা ও একটি স্টিলের পাইপ জব্দ করা হয়। গ্রেফতার দুজন জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সহযোগী হিসেবে মামুন (৪০) ও সুমন (৩৮) নামে আরও দুজনের নাম প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় ২২ অক্টোবর বন্দর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, সাইফুলের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় ২০২৩ সালে চুরি ও চোরাই মাল রাখার অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালে একাধিক ধারায় আরও একটি মামলা হয়। এছাড়া ২০২৬ সালের এপ্রিলে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনোয়ার মেম্বারকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগে এবং একই বছরের জুলাইয়ে অটোরিকশাচালক মাসুম হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে পৃথক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আরও একটি মামলা রয়েছে।

ওসি আরও জানান, নারায়ণগঞ্জের বাইরেও দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতির ঘটনায় সাইফুলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বন্দরের ঢাকেশ্বরী এলাকার একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় মামলার ভিডিও ফুটেজে জনিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধেও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ওসি জামাল উদ্দিন জানান, তারা বন্দরে কুখ্যাত মামুন ডাকাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাদের সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পড়ুন: সমমনা ৭ দল নিয়ে নতুন ইসলামী জোট ঘোষণা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন