ভূমি অফিসে নাজিরের গড়মিল ৭০ টাকা, সরকারী বরাদ্দের নেপথ্য কোথায়?

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা ভূমি অফিসের অনিয়ম গুলো এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। ভূমি সেবায় রয়েছে বিবিধ হয়রানী। ভূমি সেবা আধুনিকায়ন করা হলেও জটিলতা পিছু ছাড়ছে না। ভূমি সেবা গ্রহিতারা প্রতিনিয়িত নানা জটিলতায় পড়ছে। সরকারী বরাদ্দের অর্থও হদিস মিলছে না।

সম্প্রতী জেলার চারঘাট উপজেলা ভুমি অফিসে সরকারী বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বে থাকলেও, থামছে না অনিয় আর দূর্নীতি। বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন, তাহলে রহস্যের মূল ঘটনা কি? এই প্রশ্নে উত্তর খুঁজতে অনুসন্ধান শুরু করে এই পত্রিকার প্রতিনিধি। অনুসন্ধনে ৭০শতাংশ তথ্য সংগ্রহ হলে তবে বাকি ৩০ শতাংশ তথ্য অদৃশ্য রয়েছে। অনেক ঘটনার সূচনা হচ্ছে কিন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উক্ত বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। একই ভাবে অশিকার করেছেন গত ২০২৪-২৫ এবং ২৬ সালের সরকারী বরাদ্দের অর্থের গড়মিলের তথ্য।

গত ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ সালের দিকে চারাঘাট উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বে ছিলেন আরিফ হোসেন এবং রাহাতুল করিম মিজান। তবে মীর মেজবাহীদুজ্জুলাম চৈাধুরী এই ভূমি অফিসের দায়িত্বে ছিলেন অল্প কিছু দিন। সম্প্রতী দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভির আহমেদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারী বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন এবং খরচের কাজ গুলো করে আসছেন উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ লুৎফর রহমান (সোহান)। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সরকারী ভূমি অফিস সংস্কার, অফিসের কাজে ব্যবহারিত নতুন কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিন, এবং ইলেকট্রনিক্স বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়, ইলেকট্রনিক্স পন্য মেরামত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্যবহারিত গাড়ির তেল, অফিস স্টাফের নুতন পোষাক, বিভিন্ন মনিহারি, অফিসের সরঞ্জামাদি, এবং মটরযানের মেরামত, তহশিল অীফস সংস্কারসহ বিবিধ কাজের বিষয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অফিসের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকেন ভূমি মন্ত্রনালয়।

নাজির কাম ক্যাশিয়ার পদে দায়িত্বে রয়েছে কর্মরত মোঃ লুৎফর আলম সোহান। অফিসের বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অফিস সংস্কারের কাজসহ বিবিধ ভাইচারে তিনি বিল উত্তোলন করেছে ভূমি অফিসের নাজির। এই ভূয়া বিল উত্তোলনে সহযোগিতা করেন উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসের অডিটর মুর্শিদা। নাজির লুৎফর আলম সোহান নিজেকে অফিসার বলে জাহির করেন। সে ৩য় শ্রেনীর কর্মচারী হলেও , সরকারি ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তার মতো রয়েছে ভিজিটিং কার্ড, অফিসে সবার থেকে আলাদা বসার চেয়ার। প্রাইভেট কারে ভূমি অফিসে আসেন তিনি। ৩য় শ্রেনীর একজন কর্মচারীর মোঃ লুৎফর আলম সোহান এর বিলাসী জীবনের নেপথ্যের উৎস কোথায়? এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ লুৎফর আলম সোহান গনমাধ্যমকর্মীরে বলেন, তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। ভূমি অফিসে অডিট হয়েছে, তারা কোন অনিয়ম পাইনি। তবে তার কাছে ৭০ টাকার একটি গড়মিল পেয়েছিল, সেটাও সমাধান হয়েছে। এই অফিসের সকল কিছু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন। অপরদিকে তিনি বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে হুশিয়ারি দেন, তার বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ হলে মানহানির মামলা করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর মুর্শিদা মুঠো ফোনে বলেন, ভূমি অফিসের অনেক বিল থাকে। যার কারনে তাদের সঙ্গে প্রায় অফিসে দেখা হয়, এর বেশি কিছু না। উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস কাগজের সত্যতা দেখেই বিল পাশ করেন। সার্বিক বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখা তাদের কাজ না বলে, মন্তব্য করেন অডিটর মুর্শিদা।

ভুমি অফিসের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভির আহমেদ বলেন, সম্প্রতী তিনি চারঘাট (ভূমি) অফিসে বদলি হয়ে এসেছেন। এই বিষয় গুলো উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখবেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মাদক নয়, যুবসমাজের শক্তি হোক খেলাধুলা : এম এ জলিল

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন