রাতের অন্ধকার তখন বেশ গাঢ়। চারদিক নিস্তব্ধ। সিধলী থেকে নেত্রকোনাগামী পাকা রাস্তা ধরে ছুটে আসছিল একটি পিকআপ ভ্যান। বাহ্যিকভাবে দেখে বোঝার উপায় নেই এর ভেতরে কী লুকিয়ে আছে। কিন্তু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি চৌকস দল। গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। সিমেন্টের বস্তার আড়ালে সুকৌশলে পাচার হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ মাদক।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত টানা অভিযানের পর নেত্রকোনা সদর থানাধীন দিগজান বাজার এলাকা থেকে ৫৬০ বোতল ‘ফেয়ারডিল নিউ’ (ফেনসিডিলের নতুন রূপ) সহ এক যুবককে আটক করা হয়। আটককৃত ওই যুবকের নাম মো. ফারুক মিয়া (২৬)। তিনি জেলার পূর্বধলা উপজেলার ৪নং জারিয়া ইউনিয়নের নাটেরকোণা গ্রামের জব্বার আলী ও মোছা. হোশনাহার বেগমের ছেলে।
শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নেত্রকোনার সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দিগজান বাজারের সাইদুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনের রাস্তায় গাড়িটির গতিরোধ করে রেইডিং টিম।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অত্যন্ত চতুরতার আশ্রয় নিয়েছিল। তারা ‘ফ্রেশ সিমেন্ট’-এর সাতটি প্লাস্টিক বস্তায় এবং সাদা রঙের আরও দুইটি প্লাস্টিক বস্তায় বিপুল পরিমাণ মাদক লুকিয়ে রেখেছিল। কোডিন ফসফেট এবং ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট সমৃদ্ধ সিরাপটির বাণিজ্যিক নাম ‘FAIRDYL NEW’, যার প্রতিটি বোতলের ছিপির ওপর ‘Dynamic’ লেখা রয়েছে।
এর মধ্যে সিমেন্টের ৭টি বস্তার প্রতিটিতে ৬০টি করে ৪২০ বোতল এবং সাদা রঙের ২টি বস্তার প্রতিটিতে ৭০টি করে ১৪০ বোতলসহ সর্বমোট ৯টি বস্তায় ৫৬০ বোতল মাদক পাওয়া যায়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৫৬ লিটার তরল মাদক জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানকালে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ ভ্যান চাবিসহ জব্দ করা হয়। এছাড়া আসামির কাছ থেকে একটি ওয়ালটন ব্যান্ডের ডুয়েল সিমযুক্ত বাটন মোবাইল ফোনও উদ্ধার করে আভিযানিক দলটি।
ডিএনসি জানিয়েছে, জব্দকৃত মাদক, গাড়ি ও অন্যান্য আলামতের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ ৮১ হাজার পাঁচশো টাকা।
নেত্রকোনা জেলায় মাদকের ভয়াল থাবা রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অভিযানকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় আটক আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করার কথা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পড়ুন : মাদ্রাসায় বলাৎকার বন্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: ধর্মমন্ত্রী
সা/


