মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) লাইন্সে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
আইজিপি বলেন, ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ দর্শনকে সামনে রেখে পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মাদক নির্মূল, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাইবার অপরাধ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক ও সামাজিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্যাডেট ও স্কুল-কলেজের স্কাউটদেরও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অপরাধ প্রতিরোধ ও সচেতনতা তৈরির কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আইজিপি আরও বলেন, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থানায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কীভাবে দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করছে।
বৈষম্যহীন, মাদকমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং পিটিসি খুলনার কমান্ড্যান্ট এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য খুলনা গড়ে তুলতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আরও সক্রিয় হতে হবে।
সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন আইজিপি। এ সময় তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন তিনি।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনার অফিসার্স মেস সঞ্চিতায় আইজিপিকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করে কেএমপির একটি চৌকস দল।
পড়ুন : ওসির সাথে রুমিন ফারহানার বাকবিতণ্ডায় পুলিশের জিডি


